প্রসেনজিৎ ধর,কলকাতা :-গ্রেপ্তারের ঠিক ৩৫ দিনের মাথায় বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্তে বড় অগ্রগতি। বৃহস্পতিবার বারাসতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০ পাতার চার্জশিট জমা দিল বাগুইহাটি থানার পুলিশ। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট-রাজ, তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, দীর্ঘ তদন্তে দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। অভিযোগকারীর বয়ানের পাশাপাশি একাধিক ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য, নথি এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার আবেদনও আদালতের কাছে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রায় ১৫০ পাতার চার্জশিটে ১১ জন সাক্ষীর বয়ান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলায় ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত চার্জশিটও জমা দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।এই মামলার তদন্তে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের উৎস এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির নাম। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছিল। পাশাপাশি নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন, আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি এবং অর্থপাচারের মতো অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গ্রেপ্তার এড়াতে প্রথমে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দেবরাজ ও অদিতি। শিশুসন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে কলকাতা হাইকোর্ট অদিতি মুন্সিকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর তিনি আত্মগোপন করেন। অবশেষে গত ১ জুলাই বিধাননগর পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।বর্তমানে দেবরাজ জেল হেফাজতেই রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন করা হলেও বিচারক তা খারিজ করে দেন। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে প্রাক্তন এই নেতাকে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal