দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- নদিয়া জেলা পরিষদে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটল। মাত্র ৬ জন সদস্যকে সঙ্গে নিয়েই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ দখল করল বিজেপি। বুধবার কৃষ্ণনগরে আয়োজিত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী প্রণতি বিশ্বাস সভাধিপতি নির্বাচিত হন। পরে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের শংসাপত্র তুলে দেয়।৫২ সদস্যের নদিয়া জেলা পরিষদে এতদিন বিজেপির সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৬। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জেরে অনাস্থা প্রস্তাবের পর নতুন করে সভাধিপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতেই বিজেপির দখলে আসে জেলা পরিষদের শীর্ষ পদ।নির্বাচনকে ঘিরে জেলা পরিষদ চত্বরে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। উপস্থিত ছিলেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার-সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মী। ভোট শুরুর আগে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাও ছড়ায়। অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি সজন বিশ্বাস জেলা পরিষদে পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং ‘চোর, চোর’ স্লোগান তোলা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের ৪৬ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে এদিন ১৫ জন উপস্থিত থাকলেও তাঁরা সভাধিপতি পদে কোনও প্রার্থী দেননি। ফলে বিজেপির ৬ সদস্যের সমর্থনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাধিপতি নির্বাচিত হন প্রণতি বিশ্বাস। যদিও এদিন সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন বা কোনও ঘোষণা করা হয়নি।শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর জেলা পরিষদ চত্বরে উৎসবে মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। আবির খেলা, মিষ্টিমুখ এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নদিয়া জেলা পরিষদে এই ফলাফল জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল। দীর্ঘদিনের তৃণমূলের দখলে থাকা জেলা পরিষদে এবার বিজেপির প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা হল।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal