নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- নিউ মার্কেট এলাকায় বেআইনি ও অগ্নি-নিরাপত্তাহীন হোটেলের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ প্রশাসনের। শুক্রবার পুরসভা ও দমকলের যৌথ কমিটি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় অভিযান চালায়। একের পর এক হোটেল পরিদর্শনের পর এখনও পর্যন্ত ১১টি হোটেল বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবাসিকদের দ্রুত হোটেল খালি করতে হবে। পুরো হোটেল খালি করার জন্য দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টা সময়। অভিযানের পর আরও বেশ কয়েকটি হোটেলের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ করা হতে পারে।বৃহস্পতিবারই নিউ মার্কেট এলাকার একাধিক হোটেল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হোটেলগুলির পরিকাঠামো এবং অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষজনক জবাব না মেলায় শুক্রবার সকালে যৌথ অভিযান শুরু করে পুরসভা ও দমকল। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মারকুইস স্ট্রিটের একের পর এক হোটেলে ঢুকে নথিপত্র এবং অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পরিদর্শনের পর নিয়মভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া হোটেলগুলির গেটে এবং দেওয়ালে বন্ধের নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্ধ করে দেওয়া হোটেলগুলির অধিকাংশেরই বৈধ ট্রেড লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কার্যত অনুপস্থিত। কোথাও জলের পাম্প বিকল, কোথাও হোস পাইপ নেই। আবার কোথাও জলের লাইন থাকলেও তা ব্যবহারের উপযুক্ত অবস্থায় নেই বলে তদন্তে উঠে এসেছে।এখনও পর্যন্ত ২৩ নম্বর মারকুইস স্ট্রিটের সাতটি এবং ২৫ নম্বর মারকুইস স্ট্রিটের তিনটি হোটেল বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার নতুন করে এলাকার আরও ১৭টি হোটেলকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে দমকল। তাদেরও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে শনিবার থেকে ওই হোটেলগুলির বিরুদ্ধেও বন্ধের নির্দেশ জারি হতে পারে|অভিযানের জেরে সমস্যায় পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরাও। শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসা কয়েকজন পর্যটকের আগে থেকেই নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে বুকিং ছিল। কিন্তু হোটেলে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, প্রশাসনের নির্দেশে হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আচমকাই নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে তাঁদের। নিউ মার্কেট এলাকায় প্রশাসনের এই অভিযান ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal