প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হস্টেল থেকে উদ্ধার হল এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। মৃত ছাত্রীর নাম তৃষা সাহা (২৩)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি বিভাগের এমএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বাড়ি শিলিগুড়িতে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুণ্ডিবাড়ি থানার পুলিশ দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে পৌঁছয়। সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুণ্ডিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিএসডব্লিউ-সহ অন্যান্য আধিকারিকরাও।তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের তরফেও কোনও নির্দিষ্ট কারণের কথা জানানো হয়নি। ছাত্রীর মামার দাবি, তৃষা অত্যন্ত হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন। পারিবারিক কোনও সমস্যাও ছিল না। ফলে হঠাৎ কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর নেপথ্যে মানসিক অবসাদ, ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হস্টেলের ঘরের পরিস্থিতি, সম্প্রতি ছাত্রীর গতিবিধি এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ বা কথাবার্তা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কোচবিহারের এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক মত।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃষা ইন্টারন্যাশনাল হস্টেলে থেকেই এমএসসি-র পড়াশোনা করছিলেন। সম্প্রতি তাঁর কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না, হস্টেলে তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন ছিল—এসব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সহপাঠীদের মধ্যেও এই ঘটনায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও অস্বাভাবিকতার প্রমাণ মিললে সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। এখন পরিবারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তদন্তকারীদের নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে। ঠিক কী ঘটেছিল উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই হস্টেল ঘরে, তদন্ত শেষ হলেই তার উত্তর মিলবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal