দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-সরকারপোষিত স্কুল-কলেজের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) থেকে কেন বঞ্চিত থাকবেন? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও তাঁদের বকেয়া ডিএ না মেটানোর অভিযোগে এবার রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ABTA-র দায়ের করা মামলায় শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার শুনানিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। এবিটিএ-র দাবি অনুযায়ী, সরকারপোষিত স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের কবে থেকে বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে রাজ্যকে স্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা জানাতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের অর্থ দফতরকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান মেটানোর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রাজ্যের সরকারপোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগোলেও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা গ্রান্টস-ইন-এইড স্কুলের কর্মীদের ক্ষেত্রে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা কবে থেকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
মামলাকারী সংগঠনের দাবি, রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ দফতর বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। কিন্তু একই রাজ্যের সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের ক্ষেত্রে কেন একই সুবিধা কার্যকর হচ্ছে না, সেই প্রশ্নই তুলেছে এবিটিএ।এর আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কীভাবে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো হবে, সে বিষয়ে কমিটি তাদের প্রস্তাব শীর্ষ আদালতের কাছে জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফেও সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কিন্তু সরকারপোষিত স্কুল-কলেজের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই এবিটিএ-র তরফে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। শুক্রবারের শুনানিতে আদালতের নির্দেশের পর এখন নজর আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের রিপোর্টের দিকে। রাজ্য সরকার ওই দিন কী অবস্থান জানায়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে সরকারপোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ পাওয়ার ভবিষ্যৎ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal