Breaking News

সম্পত্তির লোভে মায়ের চোখের সামনেই বাবাকে গলা টিপে খুন! ছেলের ‘হাতিয়ার’ দস্তানা, ইন্ধনের অভিযোগ বৌমার, চন্দননগর আদালতে দম্পতির যাবজ্জীবন

প্রসেনজিৎ ধর,হুগলি:- চন্দননগর আদালতে চাঞ্চল্যকর বাবা খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন ছেলে ও পুত্রবধূ। সম্পত্তির লোভে স্ত্রীর প্ররোচনায় ছেলে বাবাকে খুন করেছিল বলে অভিযোগ। খুনের সময় প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে হাতে দস্তানা পরেছিল অভিযুক্ত ছেলে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত অমিত কোলে এবং তাঁর স্ত্রী পুজা কোলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল চন্দননগর আদালত।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০২৩ সালের ৬ জুলাই রাতে। তারকেশ্বর থানার গৌরবাটি গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আদিত্য কোলে রাতের খাবার খেয়ে দোতলায় নিজের ঘরে ঘুমোতে চলে যান। একই তলায় নিজের ঘরে নাতনিকে নিয়ে শুয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী সাবিত্রী কোলে। রাত প্রায় ১টা নাগাদ স্বামীর ঘর থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান সাবিত্রীদেবী। ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।সাবিত্রীদেবীর ডাকাডাকিতে তাঁর নাতি এসে দরজা খুলে দেয়। এরপর স্বামীর ঘরে গিয়ে তিনি যে দৃশ্য দেখেন, তাতে কার্যত শিউরে ওঠেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলে অমিত কোলে হাতে দস্তানা পরে বাবার বুকের উপর বসে গলা টিপে ধরেছিল। পাশে থাকা পুত্রবধূ পুজা তাঁকে খুন করার জন্য স্বামীকে প্ররোচনা দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন সাবিত্রীদেবী।
কোনও রকমে সেখান থেকে বেরিয়ে অন্ধকারের মধ্যে প্রায় ১০ মিনিট হেঁটে দেওরের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। পরে তারকেশ্বর থানায় ছেলে অমিত এবং পুত্রবধূ পুজার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দু’মাসের মধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
চন্দননগর আদালতে শুরু হয় মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সাবিত্রী কোলের সাক্ষ্য এই মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতেই আদালত অভিযুক্ত দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করে।
সরকার পক্ষের আইনজীবী অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজের বাবাকে খুন করার পাশাপাশি প্রমাণ লোপাটের জন্য গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে চন্দননগর আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র মোহন সরকার জানান, অপরাধের গুরুত্ব নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু অভিযুক্ত দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে এবং তারা দু’জনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সেই মানবিক দিক বিবেচনা করেই মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘নিজের ছেলে বাবাকে খুন করেছে। প্রমাণ লোপাটের জন্য হাতে দস্তানা পরেছিল। নিজের সন্তানের কাছেও বৃদ্ধ বাবা সুরক্ষিত নয়। এটা মানবতার লজ্জা। আমি সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত দম্পতির সন্তানদের কথা বিবেচনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।’’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *