Breaking News

যাদবপুরে মধ্যরাতের তাণ্ডবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন! সংঘর্ষের সময় উপাচার্য-রেজিস্ট্রারকে ফোনে না পাওয়ার অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে এবিভিপি

প্রসেনজিৎ ধর,কলকাতা :-বুধবার গভীর রাতে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পড়ুয়াদের একাংশ ১০০ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান বলে দাবি। একই সময়ে স্থানীয় থানার পুলিশও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু সেই সংকটের মুহূর্তে উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারকে ফোনে পাওয়া যায়নি—এমনই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে।ঘটনার সূত্রপাত জিবি মিটিং ঘিরে। এবিভিপির দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও স্বীকৃত ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তা সত্ত্বেও জিবি মিটিং ডাকার প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। সংগঠনের অভিযোগ, প্রায় ৭০-৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন। পাল্টা জমায়েত ও সংঘর্ষে বুধবার রাতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যাদবপুর ক্যাম্পাস।
বৃহস্পতিবার সকালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির পাল্টাপাল্টি জমায়েতে উত্তেজনা ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। ঘটনার প্রতিবাদে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান এবিভিপি সদস্যরা। তবে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার আগেই উপাচার্যকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবিভিপির সভাপতি নিখিল দাস।
তাঁর দাবি, হামলার সময় উপাচার্যকে ফোন ও মেসেজ করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত পুলিশ পিকেট ছিল না বলেও অভিযোগ করেন এবিভিপি নেতৃত্ব। একইসঙ্গে ঘটনার উচ্চশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসেছে। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার কারণ ও প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়া বহিরাগতদের চিহ্নিত করা হবে। নিয়ম মেনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে।তবে সিসিটিভি ও নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও গভীর রাতে কীভাবে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সংঘর্ষের সময় প্রশাসনের সক্রিয়তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।এর মধ্যেই যাদবপুরের ঘটনা পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। ঘটনার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়ে মামলা করেন এক আইনজীবী। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। বরং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে পৃথক মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং সংঘর্ষে বহিরাগতদের উপস্থিতি—তিনটি বিষয়ই এখন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *