Breaking News

শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ মেটাতে ১২ হাজার কোটি! শিক্ষক দিবসে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘মর্যাদা ফেরাতে’ শুদ্ধ নিয়োগের বার্তা

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, শিক্ষকদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগ-সহ একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শুধু ভাষণ নয়, কাজের মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনাই সরকারের লক্ষ্য। নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে স্বচ্ছ ও ‘পরিশুদ্ধ’ প্রক্রিয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘নিশ্চিন্তে থাকুন। কোনও অন্যায় হবে না। ভাষণ নয়, কাজে করে দেখাব।’’
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ নিয়েও এ দিন সরকারের অবস্থান জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন। ইন্দু মলহোত্র কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, রাজ্য সরকার তা মেনে চলবে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়া সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে বকেয়া মেটানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এক দিনে ওই বিপুল অর্থ দেওয়া সম্ভব নয় বলেই পর্যায়ক্রমে তা মেটানোর কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময়ে শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার পোষিত স্কুলগুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সেই আবহে শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।এদিন রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪২ শতাংশ। পুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আগাম বেতন দেওয়া হবে এবং তার সঙ্গে ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি। তবে এই ২০ শতাংশকে বকেয়া ডিএ হিসাবে ধরা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষকদের পড়ানোর পাশাপাশি যাতে তাঁদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে না হয়, সেই বিষয়েও পদক্ষেপের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে মিড-ডে মিলের হিসাব রাখার মতো কাজের চাপ কমাতে শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকদের মূল কাজ পড়ানো, তাই সেই কাজেই যাতে তাঁরা মন দিতে পারেন, সে দিকে নজর দেবে সরকার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *