Breaking News

অফিস ফেরার সময় মেট্রোয় ভয়াবহ আগুন আতঙ্ক! বেলগাছিয়ায় ঢুকতেই ধোঁয়ায় ভরে গেল কামরা, হুড়োহুড়ি যাত্রীদের

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- শুক্রবার বিকেলে অফিস ফেরার ব্যস্ত সময়ে মেট্রোয় আচমকা ধোঁয়া বের হওয়াকে কেন্দ্র করে ছড়াল আতঙ্ক। বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে দক্ষিণেশ্বরগামী একটি মেট্রোর রেক থেকে গলগল করে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত মেট্রোর কামরা খালি করে দেওয়া হয়। নিরাপদে যাত্রীদের স্টেশনে নামিয়ে আনা হয়।
মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ দক্ষিণেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল মেট্রোটি। আচমকাই রেকের ভিতরে ধোঁয়া দেখতে পান যাত্রীরা। দরজা বন্ধ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই কামরার ভিতর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। বিপদ আঁচ করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। শুরু হয় হুড়োহুড়ি।
এর মধ্যেই বেলগাছিয়া স্টেশনে মেট্রোটি এসে দাঁড়ালে ‘আগুন’ বলে চিৎকার শুরু করেন যাত্রীদের একাংশ। আতঙ্কে দ্রুত মেট্রো থেকে নেমে পড়েন সকলে। মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় গোটা রেক। নিরাপত্তার কারণে ওই মেট্রোটিকে বেলগাছিয়া স্টেশনেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ মেট্রো পরিষেবায় প্রভাব পড়ে। দক্ষিণেশ্বর থেকে গিরিশ পার্ক পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। মেট্রোর রেকে আচমকা ধোঁয়া কেন দেখা দিল, সত্যিই আগুন লেগেছিল কি না, নাকি অন্য কোনও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন মেট্রোরেলের আধিকারিকরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর ফের পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়।এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার অন্যান্য দিনের তুলনায় কম সংখ্যক মেট্রো চালানোর কথা আগেই জানানো হয়েছিল মেট্রোরেলের তরফে। তার উপর আচমকা এই ধোঁয়া আতঙ্ক এবং পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, ব্যস্ত সময়ে মেট্রো পরিষেবায় বারবার এমন বিভ্রাটের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেও শহিদ ক্ষুদিরামগামী একটি মেট্রোয় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সমস্যার জেরে মেট্রোটি মাঝপথে দাঁড়িয়ে যায়। পরে যাত্রীদের রেক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরপর দু’দিন মেট্রো বিভ্রাটের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যাত্রী পরিষেবা ও রেকের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে। বারবার কেন এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তা নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীদের একাংশ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *