প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে গোরক্ষপুরের উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার কথা ছিল ইন্ডিগোর একটি বিমান। উড়ানের ঠিক আগে বিমানের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুট ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্ক। ওই চিরকুটে বিমানে বোমা রাখা রয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বিমানবন্দর সূত্রে খবর। এরপরই বাতিল করা হয় নির্ধারিত উড়ান। শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, উড়ানের আগে নিয়মমাফিক বিমানের শেষ দফার পরীক্ষা চলছিল। সেই সময় বিমানের শৌচালয়ে একটি কাগজের টুকরো নজরে আসে। সেটিতে বোমা রাখার হুমকি লেখা ছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই সতর্ক হয়ে যান পাইলট এবং বিমানকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিআইএসএফ জওয়ান এবং বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্নিফার ডগ নিয়ে বিমানের ভিতরে শুরু হয় তল্লাশি। বিমানের প্রতিটি কামরা, আসন, লাগেজ রাখার জায়গা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চললেও এখনও পর্যন্ত বিমানের ভিতর থেকে কোনও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রাথমিক ভাবে কোনও বিস্ফোরক বা বোমা পাওয়া যায়নি বলেই সূত্রের খবর। একই সঙ্গে হুমকির চিরকুটটি কে বা কারা রেখেছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।বোমাতঙ্কের জেরে নির্ধারিত সময়ে কলকাতা থেকে গোরক্ষপুরের উদ্দেশে বিমানটি উড়তে পারেনি। বিমানটি কখন ফের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যাত্রীদেরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্তে এক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। তবে ওই ব্যক্তিই হুমকির চিরকুট রেখেছিলেন কি না, নাকি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।উড়ানের আগে বিমানের শৌচালয়ে কী ভাবে ওই চিরকুট পৌঁছল, কে সেটি লিখল এবং আদৌ কোনও বিস্ফোরক বিমানে রাখা হয়েছিল কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার জেরে কলকাতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal