Breaking News

গ্রেফতারি পরোয়ানা থেকে স্বস্তি মহুয়ার! কৃষ্ণনগর আদালতের নির্দেশ খারিজ, এমপি-এমএলএ কোর্টে গেল মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা :- মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা-সহ একাধিক নির্দেশ আপাতত স্থগিত করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটির বিচার আর কৃষ্ণনগর আদালতে হবে না। মামলাটি স্থানান্তর করা হয়েছে বিধাননগরের এমপি-এমএলএদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আদালতে। ফলে আপাতত স্বস্তি পেলেন মহুয়া। মহুয়ার সাংসদ পরিচয়কে সামনে রেখেই মামলা স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কৃষ্ণনগর আদালতে এই মামলায় এত দিন যে সমস্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও আপাতত কার্যকর থাকবে না। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও বিচার হবে বিধাননগরের এমপি-এমএলএ কোর্টেই। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মহুয়া মৈত্রের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি মহিলাদের তুলসীমালা, বোরখা ও হিজাব পরানো সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্য নিয়েও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে কৃষ্ণনগরের এক বাসিন্দা নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগকারীর দাবি ছিল, মহুয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করেছেন, একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ উসকে দিয়েছেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন এবং ভয় দেখানোর মতো মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় কৃষ্ণনগর আদালত একাধিক বার মহুয়াকে সমন পাঠিয়েছিল। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ। এর আগে হাই কোর্ট গ্রেফতারি পরোয়ানার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
সোমবার ফের মামলাটির শুনানি হয় ডিভিশন বেঞ্চে। মহুয়ার আইনজীবী অর্ক নাগ আদালতে যুক্তি দেন, তিনি একজন সাংসদ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিচার এমপি-এমএলএদের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ আদালতেই হওয়া উচিত। সেই যুক্তি মেনে মামলাটি কৃষ্ণনগর আদালত থেকে বিধাননগরের এমপি-এমএলএ কোর্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।ফলে গ্রেফতারি পরোয়ানা-সহ নিম্ন আদালতের আগের নির্দেশগুলি আপাতত স্থগিত হওয়ায় স্বস্তি পেলেন মহুয়া মৈত্র।
এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে নদিয়ার সার্কিট হাউসে থাকার সময়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। অভিযোগ, রাতে আচমকা তাঁকে সার্কিট হাউস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সময় বাইরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বলে দাবি। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মহুয়া। পাশাপাশি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকেও চিঠি দিয়েছেন তিনি। বিষয়টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *