প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। উৎসবের দিনগুলিতে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠক থেকে একাধিক নির্দেশিকা সামনে আনা হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এগুলিকে কোনওভাবেই ‘বিধিনিষেধ’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।এবারের পুজোয় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে মহাষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা। ওই দিন কোনও মদের দোকান বা বার খোলা রাখা যাবে না। প্রশাসনের বক্তব্য, পুজোর পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। যদিও অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, অষ্টমী ও নবমীর দিন মদ বিক্রি থেকে রাজ্যের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়। তা সত্ত্বেও ধর্মীয় আবেগ এবং উৎসবের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে অষ্টমীর দিন ‘ড্রাই ডে’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পুজোর মণ্ডপ, প্রতিমা কিংবা থিম তৈরির ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে প্রশাসন। এমন কোনও বিষয় বা উপস্থাপনা করা যাবে না, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। মা দুর্গার প্রতি মানুষের বিশ্বাস এবং বাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।দুর্গোৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিরও ঘোষণা হয়েছে। রাজ্যের ছ’টি বড় শহরে দু’দিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ছ’টি নির্দিষ্ট ঘাটেও থাকবে বিশেষ কর্মসূচি। একই সঙ্গে দিব্যাঙ্গজন, বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা এবং বিভিন্ন আশ্রমে থাকা মানুষদের জন্য বিশেষ পুজো পরিক্রমার ব্যবস্থা করবে সরকার।সরকারি ‘শারদ সম্মান’-এর ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিচারকমণ্ডলীতে এমন ব্যক্তিদের রাখা হবে, যাঁদের পুজোর শাস্ত্রীয় জ্ঞান ও বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনও পক্ষপাত না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।পুজো কমিটিগুলির জন্য একাধিক নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মাতৃপক্ষ বা দেবীপক্ষ শুরুর আগে কোনও পুজোর উদ্বোধনের অনুমতি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের আগে কোনও মণ্ডপ বা প্রতিমার উদ্বোধন করা যাবে না।
পুজোর জন্য জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কলকাতায় রেড রোড ও ক্যাথিড্রাল রোড-সহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পুজোর আয়োজন করে যান চলাচল বন্ধ করা যাবে না। পুজো এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানোর উপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিসর্জনের ক্ষেত্রেও সময়সীমা মেনে চলতে হবে। কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে। তবে প্রশাসনের তরফে জোর করে বা চাপ সৃষ্টি করে কারও বিসর্জনের দিন পরিবর্তন করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। নতুন পুজো কমিটিগুলির ক্ষেত্রে অবশ্য অতিরিক্ত কোনও কড়াকড়ি রাখা হচ্ছে না।এদিনের বৈঠক থেকেই মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানটি জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।সব মিলিয়ে, পুজোর আনন্দ যাতে নির্বিঘ্নে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয় এবং উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই সমন্বিত প্রস্তুতি বলে জানানো হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal