প্রসেনজিৎ ধর, হুগলি:- শুক্রবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা আপাতত স্থগিত। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচি। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্যের করা মামলা ডিভিশন বেঞ্চ গ্রহণ করায় শুক্রবারের সভা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান বিচারপতি ঘুগের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির জরুরি শুনানি হবে। সেই শুনানিতে সভার বিকল্প স্থান নিয়ে রাজ্য প্রশাসন নিজেদের অবস্থান আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারে বলে সূত্রের খবর। অন্য দিকে, কেন শ্রীরামপুরেই সভা আয়োজন করা প্রয়োজন এবং সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পুলিশি হেনস্থার যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও আদালতে তুলে ধরতে পারেন মামলাকারী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। এ বিষয়ে অতিরিক্ত হলফনামা জমা দেওয়ার সুযোগও মিলতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবারের কর্মসূচি ঘিরে। ওই দিন দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের জমায়েত করে মিছিলের অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, জিটি রোড ছুঁয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। পরিবর্তে দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে সর্বাধিক ২ হাজার মানুষকে নিয়ে মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের মাঠে শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়। আদালত একই সঙ্গে সভায় ধর্মীয় উস্কানি বা প্ররোচনামূলক বক্তব্য না রাখা এবং শব্দবিধি কঠোর ভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেয়। তবে সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার এবং মাহেশ জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল ও আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্যের যুক্তি, সভার জন্য যে মাঠ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ধর্মীয় সম্পত্তি। মন্দির কর্তৃপক্ষের সম্মতি না থাকলে সেখানে প্রশাসন বা পুলিশ কীভাবে সভার আয়োজন করতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।
এই প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শুক্রবারের কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকেরা। এখন ডিভিশন বেঞ্চের শুনানির দিকেই তাকিয়ে কালীঘাট তৃণমূল।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal