Breaking News

বাউল সম্রাটের জমি দখলের অভিযোগ, ‘জনতার দরবারে’ পূর্ণদাস! অনুব্রত-ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সল্টলেক থেকেই ডিএমকে ফোন শুভেন্দুর

নিজস্ব সংবাদদাতা:- জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল। ইলামবাজার ও শান্তিনিকেতনে দখল হয়ে যাওয়া দুটি জমি পুনরুদ্ধারের আবেদন নিয়ে বুধবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন ‘বাউল সম্রাট’ এবং তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিগুলি দখল করে রেখেছেন এক জমি মাফিয়া।পূর্ণদাস বাউলের পরিবারের দাবি, বীরভূমের ইলামবাজার থানার কামারপাড়া মৌজায় রাস্তার ধারে সাতের দশকে প্রায় চার বিঘা জমি কেনা হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে কেনা সেই জমি ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে জবরদখল হতে শুরু করে বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, সুকুল টুডু নামে এক ব্যক্তি ওই জমি দখল করে রেখেছেন।শুধু ইলামবাজার নয়, শান্তিনিকেতনের আরও একটি জমি নিয়েও একই অভিযোগ তুলেছেন বাউল শিল্পী ও তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, বাউল চর্চার জন্য পূর্ণদাস বাউলের বাবাকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি জমি দিয়েছিলেন। সেই জমিটিও বর্তমানে দখল হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে এর আগে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পূর্ণদাস বাউল। জেলাশাসক থেকে শুরু করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। কয়েক দফায় আশ্বাস মিললেও বাস্তবে জমি পুনরুদ্ধার হয়নি বলে দাবি পরিবারের। ২০২১ সালের অক্টোবরেও ইলামবাজারে গিয়ে জমি দখলের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন পূর্ণদাস বাউল।
এরপরই বুধবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ সরাসরি হাজির হন বাবা ও ছেলে। দিব্যেন্দু দাস বাউলের দাবি, তাঁদের কথা শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সামনেই বীরভূমের জেলাশাসককে ফোন করেন এবং ইলামবাজার ও শান্তিনিকেতনের জমি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গে দিব্যেন্দু জানান, শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের বলেন, “আপনাদের আসার কোনও দরকার ছিল না। আমি বিষয়টা জানি। একবার ফোন করে দিতেন, আমি নিজে ডিএম-এর সঙ্গে কথা বলে নিতাম।”বুধবারের সাক্ষাতে পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর ছেলে জানান, জমি ফিরে পেলে সেখানে বাউল সংস্কৃতির প্রসার এবং বাউলদের শিক্ষার জন্য কাজ করতে চান তাঁরা। তাঁদের সেই পরিকল্পনার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলেও জানিয়েছেন দিব্যেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর যথেষ্ট আশাবাদী পূর্ণদাস বাউল। তিনি বলেন, “সারা রাজ্যে জঙ্গলরাজ শেষ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় আশ্বাস পেয়েছি। এ বার নিশ্চয়ই কাজ হবে… আমি আশাবাদী।”
দীর্ঘদিন ধরে জমি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়ে আসা বাউল সম্রাটের দাবি, এবার মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হবে। জমি পুনরুদ্ধার হলে সেই জায়গাকে বাউল সংস্কৃতি ও শিক্ষার কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যেই এগোতে চান পূর্ণদাস ও তাঁর পরিবার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *