প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বাংলার মাটিতে গেরুয়া পতাকার অসম্মান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগানের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সভার মঞ্চ থেকে এমনই কড়া বার্তা দেন তিনি।গোলপার্ক থেকে এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজিত গেরুয়া সম্মান যাত্রায় নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। মিছিল ঘিরে এদিন যাদবপুর কার্যত গেরুয়া আবহে ঢেকে যায়। হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে পথে নামেন সাধু-সন্তরাও। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তাপস রায় এবং যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর পাশে হাঁটতে দেখা যায় পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজকেও।মিছিল যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর ‘বন্দে মাতরম’ গানে অংশ নেন উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। এরপর মঞ্চে উঠে গেরুয়ার সম্মান রক্ষার শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যাদবপুরের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রসঙ্গও।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায় ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ গ্যাং কিংবা দেশবিরোধী কার্যকলাপকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। গেরুয়া নিয়ে যারা অসম্মানজনক মন্তব্য বা তাণ্ডবের কথা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যারা গেরুয়াকে অপমান করবে, তাদের ‘শিকড়-সহ উপড়ে ফেলা’ হবে।এদিন নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বাম আমলের অবসান এবং পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারকে সরানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নিজের রাজনৈতিক সংকল্পের কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, অতীতে কমিউনিস্টদের সরানোর যে লক্ষ্য নিয়েছিলেন, তা পূরণ হয়েছে। এরপর মোদির নেতৃত্বে জামাতি সরকারকে সরানোর যে লক্ষ্য নিয়েছিলেন, সেটিও মানুষের সহযোগিতায় সফল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।সভা থেকে আগামী দিনেও গেরুয়া শক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ডাক দেন শুভেন্দু। স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়ার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে গেরুয়া সম্মান রক্ষার প্রসঙ্গ।
সব মিলিয়ে গেরুয়া সম্মান যাত্রাকে কেন্দ্র করে বুধবার যাদবপুরে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মিছিল থেকে সভা—প্রতিটি পর্বেই গেরুয়া পতাকা, ধর্মীয় আবহ এবং রাজনৈতিক স্লোগানে সরগরম ছিল গোটা এলাকা। আর এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal