Breaking News

স্ট্র্যান্ড রোডে এবার ‘প্যারিসের ছোঁয়া’! পুজোর আগেই আলোয় ঝলমল চন্দননগর, হঠাৎ কেন সাজসাজ রব ফরাসডাঙায়?

প্রসেনজিৎ ধর :-ফরাসি ঐতিহ্যের শহর চন্দননগরে এবার উৎসবের আবহ। জগদ্ধাত্রী পুজোর আগেই আলোয় সেজে উঠছে শহরের ঐতিহাসিক স্ট্র্যান্ড রোড। তবে পুজোর প্রস্তুতি নয়, ফরাসি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলেছে তিন দিনের বিশেষ উৎসব। ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।উৎসবের সূচনা করবেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। অনুষ্ঠানে ফরাসি রাষ্ট্রদূত এবং ফরাসি সরকারের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তাঁদের স্বাগত জানাতেই ইতিমধ্যে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্ট্র্যান্ড রোড। উৎসবকে কেন্দ্র করে চন্দননগরে পর্যটন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের বিশেষ আবহ তৈরি হতে চলেছে |তিন দিন ধরে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রশাসন। গঙ্গাবক্ষে আরতি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—বিভিন্ন কর্মসূচি থাকছে উৎসবের তালিকায়। পাশাপাশি স্ট্র্যান্ড রোডের দু’ধারে বসবে খাবারের স্টল। সেখানে বাঙালি ও ভারতীয় খাবারের পাশাপাশি ফরাসি এবং বিভিন্ন ধরনের কন্টিনেন্টাল খাবারের স্বাদও মিলবে।চন্দননগর এমনিতেই আলোকসজ্জার জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত। বিশেষ করে জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় শহরের আলোর কারুকাজ অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এবার পুজোর কয়েক সপ্তাহ আগেই তিন দিনের উৎসবকে ঘিরে ফের আলোর ঝলমলে সাজে সেজে উঠছে ফরাসডাঙা।
চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, চন্দননগরের সঙ্গে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পুরনো স্থাপত্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ঐতিহ্যকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ফ্রান্সের সঙ্গে চন্দননগরের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ। তিন দিন ধরে শহরে উৎসব চলবে বলেও জানান তিনি।
শুধু উৎসব আয়োজনেই থেমে থাকতে চাইছে না রাজ্য সরকার। চন্দননগরকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে পর্যটন পরিকাঠামো আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হুগলির ইউরোপীয় ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার ভাবনাও রয়েছে সরকারের।
হুগলির একাধিক জায়গায় এখনও ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক ইতিহাসের নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। ব্যান্ডেলে রয়েছে পর্তুগিজ স্থাপত্যের স্মৃতি, আবার চুঁচুড়ায় রয়েছে ডাচদের ঐতিহ্যের ছাপ। চন্দননগরের ফরাসি ইতিহাসের সঙ্গে এই নিদর্শনগুলিকে যুক্ত করে হুগলি নদীর তীরবর্তী এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ফলে ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের উৎসব শুধু তিন দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, চন্দননগর ও হুগলির ইউরোপীয় ঐতিহ্যকে নতুন করে পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরার উদ্যোগ হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *