Breaking News

পুজো পাস দুর্নীতি কাণ্ডে ইন্দ্রনীলের পর পুলিশের নজরে স্ত্রীও, মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় লালবাজার!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-পুজোর ই-পাস দুর্নীতি মামলায় তদন্তের গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এবার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে তলব করা হল। পাস বিক্রিতে জালিয়াতি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, এই মামলায় আগাম জামিনের আবেদনও করেছিলেন ইন্দ্রনীল-জায়া। এবার দুর্নীতির জাল আরও গভীরে পৌঁছতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গত বুধবার পুজোর ই-পাস মামলায় কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল। তাঁর মন্ত্রিত্বকালে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেই দুর্নীতির সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী সরাসরি যুক্ত বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। অন্যদিকে, কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের ভিআইপি পাস বিক্রি এবং কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গত জুন মাসে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ট্রাভেল এজেন্ট এই অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমে আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। পাস বিক্রির পাশাপাশি সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বইমেলার টেন্ডার ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
তদন্তকারীদের দাবি, ইউনেস্কোর নাম, সুনাম ও লোগো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না ‘মাস আর্ট’-এর। গোয়েন্দাদের অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজোর পাস বিক্রির মাধ্যমে অন্তত ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। পুজো পাস ও টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ মিলিয়ে দুর্নীতির অঙ্ক ১১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও দাবি তদন্তকারীদের।গোয়েন্দাদের আরও অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী, মেয়ে এবং আত্মীয়দের নামে থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। সেই আর্থিক লেনদেনের উৎস ও উদ্দেশ্য জানতে এবার মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন নথি ও ব্যয়ের হিসাব সামনে রেখে ইন্দ্রনীল সেনকে জেরা করেন তদন্তকারীরা। জেরায় তিনি একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ। বর্তমানে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এবার তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুজো পাস দুর্নীতির আরও তথ্য সামনে আনতে চাইছে লালবাজার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *