Breaking News

বাবার সঙ্গে থাকতে নারাজ ৯ বছরের মেয়ে! তবু কন্যার সঙ্গে দেখা করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না, বলল হাইকোর্ট

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বাবা। কিন্তু বাবার সঙ্গে থাকতে নারাজ নাবালিকা। মেয়ের অনিচ্ছার কথা বিবেচনা করে তার অস্থায়ী হেফাজতের আবেদন খারিজ করেছিল নিম্ন আদালত। তবে সন্তানের সম্পূর্ণ হেফাজত না পেলেও বাবাকে কি মেয়ের সঙ্গে দেখা করা থেকে বঞ্চিত করা যায়? এই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিল, সন্তানের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে সেই কারণে বাবাকে মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করা যায় না। কালীপুজো ও ভাইফোঁটায় মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও করে দিল আদালত।পুজোর ছুটিতে নাবালিকা মেয়েকে নিজের কাছে রাখার অনুমতি পাননি বাবা। তবে কালীপুজো ও ভাইফোঁটার সময়ে মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট তিন দিন বাবার পাশাপাশি তাঁর বাবা-মাও নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি রিশাদ মেদোরা এই অনুমতি দিয়েছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২, ৪ ও ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত নাবালিকাকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের দফতরে নিয়ে আসতে হবে। সেখানেই বাবার সঙ্গে দেখা করবে সে। ওই সময় বাবার বাবা-মাও নাতনির সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। প্রয়োজনে মেয়ের মা এবং তাঁর বাবা-মাও সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন।সাক্ষাতের সময় যাতে কোনও অশান্তি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে আদালত। দুই পক্ষের পরিবারের সদস্যদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্ধারিত তিন দিন রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মেম্বার সেক্রেটারিকে একজন আধিকারিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। দুই পক্ষের আইনজীবীদেরও ওই সময়ে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছে আদালত।
জানা গিয়েছে, আবেদনকারী বাবার মেয়ের বয়স প্রায় ৯ বছর। ২০২৫ সাল থেকেই মেয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। পুজোর ছুটিতে মেয়েকে নিজের কাছে রাখার অনুমতি চেয়ে আলিপুরের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১২ অক্টোবর সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। নিম্ন আদালতে শুনানির সময় বিচারকের সঙ্গে কথোপকথনে নাবালিকা জানায়, সে বাবার সঙ্গে থাকতে বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চায় না। মেয়ের এই অনিচ্ছার কথা বিবেচনা করেই তার অস্থায়ী হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত।এরপর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বাবা। তাঁর আইনজীবী আবেদন জানান, মেয়ের অস্থায়ী হেফাজত না দেওয়া হলেও অন্তত কালীপুজো ও ভাইফোঁটার সময়ে তাঁর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যদিকে, মেয়ের মায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাবালিকাকে বাবার হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা রাজি নন। তবে মায়ের উপস্থিতিতে বাবা মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জানানো হয়।দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি রিশাদ মেদোরা জানান, সন্তানের ইচ্ছা ও মতামতকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তবে সেই কারণে বাবাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না। অস্থায়ী হেফাজত না পেলেও সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকা উচিত বাবার। এই নির্দেশের মাধ্যমে মামলাটির নিষ্পত্তি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *