প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগের মাঝেই ভোটের মুখে রাজ্যবাসীর জন্য ভাণ্ডার উপুড় করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ঘোষণা করলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর পাশাপাশি আশা কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্যও খুশির খবর রয়েছে ৷অন্তবর্তী বাজেটে আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার ও পার্শ্বশিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা। ১০০০ টাকা করে বাড়ছে ভাতা। সেই সঙ্গে আশাকর্মীরা পাবেন ১৮০ দিন মাতৃত্বকালীন ছুটি। কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করবে সরকার। সিভিক ভলান্টিয়ারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুব সমাজের জন্য নতুন প্রকল্প ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার। অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘বাংলার যুব সাথী’ নামে নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করল সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য মিলবে। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বাধিক পাঁচ বছর এই সুবিধা পাওয়া যাবে। চলতি বছরের ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প শুরু হবে। ক্ষুদ্র চা-বাগান মালিকদের স্বস্তি দিয়ে কৃষি আয়কর এবং সেস মকুবের সময়সীমা ৩১ শে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে । খেতমজুরদের বাৎসরিক অনুদান বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হয়েছে, যা দুটি কিস্তিতে দেওয়া হবে । এছাড়া, ভাগচাষিদের নথিভুক্ত করার জন্য ডেটাবেস তৈরি এবং ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য সেচ ব্যবস্থা বা টিউবওয়েলের ব্যবহারে ফি সম্পূর্ণ মকুব করার কথা বলা হয়েছে । কৃষকদের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ‘ক্ষেতমজুর’দের জন্য নতুন ভাতার কথা উল্লেখ করেন । তিনি বলেন, “যাঁদের নিজস্ব জমি নেই বা অন্যের জমিতে ভাগচাষ করেন, সেই ক্ষেতমজুরদের বছরে চার হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে ৷” রবি ও খরিফ শস্যের মরশুমে দুই কিস্তিতে এই টাকা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে যাবে । ক্ষুদ্র চাষিদের সেচ বাবদ জল কর সম্পূর্ণ মকুব করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাম বাংলার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে |
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal