নিজস্ব সংবাদদাতা :-ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র | ভোটের পর থেকেই রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে হাসিমনগর এলাকা | বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁরা বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়ছেন | শুধু মারধর নয়, খুনের হুমকি থেকে শুরু করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও উঠেছে| এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই শনিবার হাসিমনগরে তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা |বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটের দিন থেকেই সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল । ভোটারদের বুথে যেতে বাধা, ভয় দেখানো, এমনকি জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার চাপ তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে | ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেই সন্ত্রাস আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির | তাদের দাবি, যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে মারধরও করা হচ্ছে | এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই হাসিমনগর এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয় । বিজেপি সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন । ‘দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে’, ‘নিরাপত্তা দিতে হবে’-এমনই সব দাবিতে সরব হন তাঁরা । বিশেষ করে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেফতারের দাবিতে তোলেন বিক্ষোভকারীরা|এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী । সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এলাকায় টহল দিতে দেখা যায় জওয়ানদের । প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি । অনেকেই বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ।প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই ফলতায় কারচুপির ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। সূত্রের খবর, রাজ্যজুড়ে যে ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে, তার মধ্যে কেবল ফলতা বিধানসভারই রয়েছে ৩২টি বুথ। নির্বাচন কমিশন এই আবেদনগুলো খতিয়ে দেখছে। আপাতত হাসিমনগরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও চাপা উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal