প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-রাজ্যে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষকে পুনরায় তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগামী সোমবার, ২৫ মে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে তাঁকে হাজির হওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে| পরপর পাঁচবার হাজিরা এড়িয়ে আগে থেকে না জানিয়েই গত ১৫ মে অবশেষে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী। সেদিন ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে ইডি আধিকারিকেরা তাঁকে দফায় দফায় জেরা করেন।
সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রথীন ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, “আমি কিছু বলব না। আমার কাছে যা যা জানতে চেয়েছে, আমি সবই দেখিয়েছি।” আবারও কি তাঁকে তলব করা হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী জানান, “জানাবে।” সাংবাদিকদের সমস্ত প্রশ্ন এড়িয়েই তিনি চত্বর ছাড়েন। সেই ম্যারাথন জেরার রেশ কাটার আগেই, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগামী সোমবার ফের তাঁকে পুর নিয়োগ মামলাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠাল ইডি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জল ইতিমধ্যেই বহুদূর গড়িয়েছে। গত ১১ মে, সোমবার ইডি দফতরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে সুজিতকে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, পুরসভাগুলিতে বেআইনিভাবে কর্মী নিয়োগের এই চক্রে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার ক্ষেত্রে সরাসরি যোগ মিলেছে। ইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, তাঁদের হাতে এমন একটি তালিকা এসেছে যেখানে কমবেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে, যাঁদের অনৈতিকভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, এই বিপুল পরিমাণ নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত কালো টাকা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গতিপ্রকৃতি সন্ধান করতেই বর্তমানে একাধিক সন্দেহভাজন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছেন ইডির আধিকারিকেরা |
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal