দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ফের অনিশ্চয়তার মুখে। রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। আগামী ৮ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।২০২৪ সালের কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১১ হাজার ৭৪৯টি শূন্যপদের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে লিখিত পরীক্ষা ও অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ফল প্রকাশ হতেই বিস্তর অসন্তোষ দেখা দেয় চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মধ্যে। অভিযোগ, বিশেষ ছাড়প্রাপ্ত বা ‘এক্সেম্পটেড ক্যাটেগরি’র জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৭টি পদের মধ্যে মেধাতালিকায় মাত্র ১০ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলাকারীদের দাবি, ওবিসি-বি, সিভিক ভলান্টিয়ার, এনভিএফ ও ভিলেজ পুলিশ ক্যাটেগরিতে কাট-অফ নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ যোগ্য প্রার্থীদের বাইরে রাখা। পরে সেই শূন্যপদগুলিকে সাধারণ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর মাধ্যমে সংরক্ষণ নীতিকে কার্যত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি আবেদনকারীদের।আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন তৃণমূল সরকার দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু মেধাতালিকা ও কাট-অফ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় পুরো বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
এদিকে রাজ্যে সরকার বদলের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। বিতর্কিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমান বিজেপি সরকার কী অবস্থান নিচ্ছে, তা স্পষ্ট করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। নিয়োগ পুরোপুরি বাতিল করে নতুন পরীক্ষা নেওয়া হবে, নাকি বিদ্যমান মেধাতালিকা সংশোধন করে প্রক্রিয়া চালানো হবে— সেই বিষয়ে নতুন সরকারের বক্তব্যই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।আগামী ৮ জুন রাজ্যের হলফনামা জমা পড়ার পরই কনস্টেবল নিয়োগের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা স্পষ্ট হতে পারে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal