Breaking News

উত্তরবঙ্গে বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর বড় ধাক্কা তৃণমূলে, শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা গৌতম দেবের!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা :- বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির পর এবার শিলিগুড়ির পুর প্রশাসনেও বড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র দু’দিন আগেই তাঁকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দিয়েছিল দল। সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছিলেন তিনি পুর প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ থেকে সরে এসে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিন। সেই প্রেক্ষিতেই মেয়র পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
যদিও আপাতত শুধুমাত্র মেয়র পদ থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন গৌতম দেব। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশের দাবি, ভবিষ্যতে তিনি দলীয় দায়িত্ব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই গৌতম দেবকে ঘিরে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যে শহরে তিনি দীর্ঘদিন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন, সেই শহরের অধিকাংশ ওয়ার্ডেই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তৃণমূলকে। এমনকি শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি গৌতম দেব। তারপর থেকেই তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর গৌতম দেব জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের বুথ ও ওয়ার্ড—দুই জায়গাতেই পরাজিত হয়েছেন। তবে সেই ফলাফলকে তিনি জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন বলে মানতে চাননি। ইভিএম সংক্রান্ত অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে জানিয়েছিলেন, মেয়র পদে থাকা বা না-থাকার বিষয়ে দলনেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি কলকাতায় এসে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গৌতম দেব। সেই বৈঠকের পরই শিলিগুড়িতে ফিরে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, খুব শীঘ্রই পুর প্রশাসনের জন্য নতুন ব্যবস্থা বা প্রশাসক নিয়োগের পথে হাঁটা হতে পারে।উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী ধাক্কার পর গৌতম দেবের এই পদত্যাগ তৃণমূলের কাছে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *