Breaking News

রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়, ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে একাধিক ধস!দার্জিলিং-শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যাহত, ভেসে গেল দুধিয়ার সেতু

দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের জেরে একাধিক জায়গায় ধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দার্জিলিং, কার্শিয়ং এবং মিরিক সংলগ্ন এলাকা।
প্রবল স্রোতে বালাসন নদীর উপর দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী সেতুটি ভেসে গিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরের দুর্যোগে মূল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নদীর বুকেই এই বিকল্প সেতু তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের টানা বৃষ্টিতে সেটিও টিকল না। ফলে শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখন ওই পথে যাতায়াত করতে হলে সুখিয়াপোখরি ঘুরে যেতে হচ্ছে।অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির জেরে মহানন্দা নদীর জলস্তরও দ্রুত বেড়েছে। তার প্রভাবে দার্জিলিং ও শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করা ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে ধস নেমেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পাহাড়ের সঙ্গে সমতলের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা আপাতত অচল।আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে নদীগুলিতে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন একই পরিস্থিতি চললে আরও সেতু ও পাহাড়ি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষ উদ্বেগের কারণ রোহিণী রোড। গত বছর এই রাস্তায় ধস নেমে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছিল। পরে মেরামত করা হলেও ফের সেখানে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি তা ঘটে, তবে দার্জিলিংয়ের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।এদিকে দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। হাসিমারা এলাকার ভোলানালা চা-বাগানে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। রাজ্য সরকার শিশুটির পরিবারের জন্য চার লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি হতে পারে। এই তিন জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে রয়েছে কমলা সতর্কতা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা ও ধসের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন জেলায় কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পেতে পারেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *