Breaking News

তারাতলার ভয়াবহ গুদাম ধসে ৩ জনের মৃত্যু,এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু শ্রমিক! বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ কলকাতার সব অনুমোদিত নির্মাণকাজ

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- তারাতলার ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।২০ জন জখম হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২ জন ICCU-তে রয়েছেন। ১৮ জন আপাতত বিপদমুক্ত, SSKM থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী| ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত অনেক শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই ২১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি আটকে পড়াদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযান চালানো হচ্ছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনার সময় গুদামের ভিতরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের দ্রুত গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রেন, জেসিবি ও গ্যাসকাটার। লোহার বিম কেটে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। সন্ধ্যা নামার পর উদ্ধারকাজে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বিশেষ আলোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির ওপর নবান্ন থেকে সরাসরি নজরদারি চালানো হচ্ছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের জন্য চারটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছে রাজ্য সরকার— ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কলকাতা পুরসভার আওতাধীন এলাকায় পূর্বতন সরকারের আমলে অনুমোদিত সমস্ত নির্মাণ প্রকল্প আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা ও নকশা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অডিটে সন্তোষজনক রিপোর্ট মিললে ১ অগস্ট থেকে ফের নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। তবে হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নির্মাণকাজ এই নির্দেশের আওতার বাইরে থাকবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর, দমকল, অসামরিক প্রতিরক্ষা, পুলিশ এবং কেএমডিএ-র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পোর্ট ট্রাস্ট ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদেরও যুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের অডিট অভিযান হাওড়া ও বিধাননগর পুর এলাকাতেও চালানো হবে।শুভেন্দুর দাবি, যে গুদামটির কাঠামো ভেঙে পড়েছে তার নকশা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা অনুমোদন করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা নকশাগত ত্রুটির ইঙ্গিত পেয়েছেন বলেও তিনি জানান। গুদামটি পোর্ট ট্রাস্টের জমিতে নির্মিত হয়েছিল এবং জমিটি লিজ নিয়েছিল বেহরা ব্রাদার্স নামে একটি সংস্থা।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ গুদামের লোহা ও কংক্রিটের বিশাল কাঠামো ভেঙে পড়ে। প্রথমে পুলিশ ও দমকল উদ্ধারকাজ শুরু করে, পরে রাজ্য প্রশাসনের অনুরোধে বিকেল ৩টার পর উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনী। দমকল, অসামরিক প্রতিরক্ষা ও এনডিআরএফ-এর তৎপরতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য জল ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *