প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে সোমবার বিধানসভায় পেশ হল ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফ্টি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’। বিলটি পেশ করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। সরকারপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তোলাবাজি, বেআইনি দখল, সম্পত্তি ভাঙচুর ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের জন্যই এই নতুন আইন আনা হয়েছে।বিল পেশের পর বক্তব্য রাখতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই আইনের প্রয়োজনীয়তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বিধানসভার দর্শকাসনে উপস্থিত একটি পরিবার। তিনি মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের উল্লেখ করে তাঁদের সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিজেপি বিধায়কেরা দাঁড়িয়ে ওই পরিবারকে সম্মান জানান।
সরকারের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শংকর ঘোষ বলেন, অতীতে তোলাবাজি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাঁর দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে পুলিশ আরও দৃঢ়ভাবে সংঘবদ্ধ অপরাধের মোকাবিলা করতে পারবে। তিনি বলেন, এই আইনের ফলে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করার আগে অপরাধীরা বহুবার ভাববে। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে সমাজবিরোধীদের টেবিলের তলায় ঢোকানোর সময় এসেছে।”বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন অগ্নিমিত্রা পালও। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ভয়ের পরিবেশে বসবাস করেছেন। সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস রুখতে কঠোর আইন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে যদি আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে সেই ক্ষেত্রেও এই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।অন্যদিকে, বিলের কড়া বিরোধিতা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর আশঙ্কা, সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতারের মতো বিধান থাকলে তার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকেই যায়। তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হলেও নির্দোষ মানুষের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বিলটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার দাবি জানান।এদিকে, বিলের বিরোধিতা করতে উঠে বক্তব্য শুরু করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে তাঁর বক্তৃতার সময় বিধানসভায় হট্টগোল শুরু হওয়ায় তিনি কার্যত নিজের বক্তব্য শেষ করতে পারেননি।
বিলের খসড়া অনুযায়ী, জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট করতে পারে— এমন একাধিক অপরাধকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তোলাবাজি ও চাঁদাবাজি, বেআইনি জমি বা সম্পত্তি দখল, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসা বা পেশায় বাধা সৃষ্টি, বেআইনি বালি ও পাথর উত্তোলন, বনজ ও বন্যপ্রাণ সম্পদের ক্ষতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কার্যকলাপ।
খসড়া বিলে ক্ষতিপূরণের বিষয়েও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিশন চাইলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের দ্বিগুণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা ধার্য করতে পারবে। বিলটি ঘিরে বিধানসভায় সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal