দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী তৃণমূল—দুই পক্ষই শহিদ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিলেও ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি আগামী ৩০ অগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার একাধিক এলাকায় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি রয়েছে। এর মধ্যেই শহিদ দিবস পালন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে তিনি জানান, কোনও বাধাই একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি আটকাতে পারবে না। তাঁর কথায়, “প্রয়োজনে রিকশায় দাঁড়িয়েও ২১ জুলাই পালন করব। রাস্তায় বেরলে আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না।”
দলীয় প্রতীক নিয়ে জল্পনার মধ্যেও কর্মীদের আশ্বস্ত করেন মমতা। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলেও তাতে লড়াই থেমে থাকবে না। “প্রতীক যদি চলে যায়, তাতেও কিছু যায় আসে না। মানুষের গ্রহণযোগ্যতাই আসল প্রতীক। দরকার হলে গলায় প্রতীক ঝুলিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাব, নতুন করে সংগঠন গড়ে তুলব,” বলেন তিনি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে ইঙ্গিত করেও তাঁর মন্তব্য, প্রতীক বদলালেও মানুষের সমর্থন বদলানো যায় না।প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একের পর এক তৃণমূল নেতার যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই দলের কর্মীদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, “চিন্তা করবেন না। আমরা আছি, ছিলাম, থাকব। যতদিন বাঁচব, মানুষের জন্য এবং কর্মীদের জন্যই লড়াই করে যাব।”এদিন কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে তালা লাগানোর ঘটনাতেও সরব হন তিনি। মমতার দাবি, অফিসটি ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ চুক্তিতে ভাড়া নেওয়া ছিল এবং নিয়মিত চেকের মাধ্যমে প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা ভাড়া ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এটি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, দলীয় অনুমোদনেই ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তাই হঠাৎ করে তালা লাগানোর কোনও যুক্তি নেই। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সবশেষে কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “একটা অফিসে তালা লাগানো যেতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তালা দেওয়া যায় না।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal