প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের চাওয়া নথি অবশেষে কালীঘাট থানায় জমা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও নথি জমা দেওয়ার জন্য পুলিশের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল শনিবার। সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর রবিবার এক প্রতিনিধির মাধ্যমে কালীঘাট থানায় কিছু নথি পাঠান তিনি। তবে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পুলিশের চাওয়া সমস্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে খুব শীঘ্রই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নোটিস পাঠানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।পুলিশ সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট গাড়িটি কবে কেনা হয়েছে, চালকের নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর কী। পাশাপাশি চলন্ত গাড়ির পাদানিতে যাঁদের ঝুলতে দেখা গিয়েছিল, তাঁদের পরিচয়ও জানতে চাওয়া হয়। এছাড়াও ওই নিরাপত্তারক্ষীরা যদি কোনও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ রয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছিল। রবিবার নিজের লেটারহেডে একটি চিঠি দিয়ে প্রতিনিধি মারফত কিছু নথি থানায় পাঠান অভিষেক। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনেক তথ্যই সেখানে নেই। তাই তদন্তের স্বার্থে ফের নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এই মামলার সূত্রপাত বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকারের দায়ের করা একটি অভিযোগ থেকে। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে দুই নিরাপত্তারক্ষী বিপজ্জনকভাবে পাদানিতে ঝুলে যাতায়াত করছিলেন, যা মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্টের ১২৩ ও ১৮৪ ধারার পরিপন্থী। অভিযোগে বলা হয়, চলন্ত গাড়িতে এভাবে যাতায়াত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে কালীঘাট থানার পুলিশ এবং একাধিক তথ্য ও নথি তলব করে।
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে জানতে চেয়েছিলেন, গাড়িটির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য, চালকের পরিচয় এবং যাঁদের গাড়িতে ঝুলতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের পরিচয়। কিন্তু পুলিশের দাবি, রবিবার জমা দেওয়া নথিতে এই তথ্যগুলির অনেকটাই অনুপস্থিত। ফলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছে পুলিশ।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মামলাকে কেন্দ্র করে চাপের মুখে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি ডিজে মন্তব্য মামলাতেও তদন্ত চলছে। ওই মামলায় তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিআইডি। তারই মধ্যে মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট লঙ্ঘনের এই মামলায় নতুন করে পুলিশের তৎপরতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তি আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal