নিজস্ব সংবাদদাতা :- উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে এক চাঞ্চল্যকর জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে সাঁইপালা ময়লাখোলা এলাকার একটি ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৩২ বছরের দেবাশিস মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ। একই সময়ে বাড়ি থেকে কিছু দূরে রেললাইনের উপর থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৩ বছরের রুনু মণ্ডলের ক্ষতবিক্ষত দেহ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবাশিস ও রুনুর বাড়ি বসিরহাটের ট্যাটরা এলাকায়। প্রায় ১৪ বছর আগে রুনুর বিয়ে হয়েছিল বনগাঁয়। তবে গত এক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের। সম্পর্কে মামি-ভাগ্নে হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দুই পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। এরপর প্রায় এক মাস আগে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে বসিরহাটের সাঁইপালা ময়লাখোলা এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।দেবাশিসের পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন এবং বাড়িতে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে দেবাশিসের বাবার ফোনে রুনু ফোন করে জানান, “ওকে মেরে ফেলেছি, এবার আমিও আত্মহত্যা করব।” এরপর থেকেই দু’জনের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন পরিবার শনিবার সকালে তাঁদের খোঁজে বসিরহাটে পৌঁছয়।পুলিশ প্রথমে রেললাইনের ধারে রুনুর দেহ উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে ভাড়াবাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেবাশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।ঘটনায় দেবাশিসের পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে যুবককে হত্যা করা হয়, তারপর রুনু আত্মহত্যা করেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। অন্যদিকে, রুনুর পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে দুটি দেহই ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal