Breaking News

পালাবদলের দু’মাস পর বদল সুর! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পুরনো দিনের কথা মনে করালেন মমতা

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দীর্ঘদিন ফলাফল মেনে নিতে চাননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেছিলেন, এই রায় তিনি মানেন না, তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতেও রাজভবনে যাননি। তবে নির্বাচনের দু’মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দলের ভাঙন এবং একের পর এক নেতার শিবির বদলের আবহে এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূল নেত্রী।
শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যিনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁকে আমার অনেক শুভেচ্ছা রইল।” পাশাপাশি তিনি জানান, মানুষের স্বার্থে কাজ হলে বিরোধিতা নয়, প্রয়োজন হলে সমর্থনও করবেন। তবে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।মমতার বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তৃণমূলের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তিনি বলেন, “আপনিও বহুবার নির্বাচনে হেরেছেন। তখন আমি নিজে আপনার কেন্দ্রে গিয়ে প্রচার করেছি। সেটা আমার দায়িত্ব ছিল, তার জন্য কোনও কৃতিত্ব চাই না।” একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘ ১০-১১ বছর শুভেন্দু তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রী ছিলেন এবং পরিবহণ, সেচ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন।
ভিডিও বার্তায় বিজেপি সরকারকেও তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সংগঠন দুর্বল হওয়ায় প্রশাসনকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। থানার আইসি থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ সুপারদের দলীয় দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিজেপিতে যোগ না দিলে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে।
দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ শোনা যায় মমতার গলায়। তাঁর দাবি, যাঁরা দীর্ঘদিন তৃণমূলে থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই এখন দল ছেড়ে অন্য শিবিরে চলে গিয়েছেন। অথচ যাঁরা শুরু থেকে লড়াই করেছেন, তাঁরাই আজ সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন।নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা বলেন, “সংগ্রামই আমার জীবন। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের জন্য লড়াই করে যাব।” তাঁকে নিয়ে কটূক্তি ও মৃত্যুকামনার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “আমি এখনও আছি, আরও অনেকদিন থাকব। আমার পরের প্রজন্মও থাকবে। আমরা ভেঙে পড়ি না, বারবার নতুন করে উঠে দাঁড়াই। এটাই আমাদের শক্তি।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *