Breaking News

ধর্মতলাতেই ২১ জুলাইয়ের সভায় অনড় মমতা-তৃণমূল, অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে ডেরেক ও’ব্রায়েন

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হল। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি না মেলায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। পুলিশের কাছ থেকে দীর্ঘদিন কোনও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ার পর আইনি পথেই সভার অনুমতি আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছে তারা। দলের তরফে বর্ষীয়ান নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা দায়ের করেছেন। আগামী ১৩ জুলাই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।তৃণমূলের দাবি, প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালনের জন্য লালবাজারে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনও অনুমতি দেয়নি কিংবা স্পষ্ট অবস্থানও জানায়নি। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।এর আগে একই ইস্যুতে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘আসল’ তৃণমূলের আবেদনও কলকাতা পুলিশ খারিজ করে দেয়। এরপর বিকল্প ভেন্যুর খোঁজে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতপন্থী নেতারা। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করার অনুমতি চাইলেও তাতেও সায় মেলেনি।এদিকে, পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমতির অপেক্ষা না করেই কয়েক দিন আগে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে পৌঁছে সম্ভাব্য সভাস্থল পরিদর্শন করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও দোলা সেন। সেখানে ফিতে দিয়ে জায়গা মেপে মঞ্চ নির্মাণের সম্ভাব্য পরিসরও খতিয়ে দেখতে দেখা যায় তাঁদের।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এভাবে যেখানে-সেখানে রাস্তা মাপতে যাওয়া যায় না। রাস্তা আটকে কোনও কর্মসূচিও গ্রহণ করা উচিত নয়।”
অন্যদিকে, পুলিশের অবস্থানও স্পষ্ট। সেন্ট্রাল কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত BNSS-এর ১৬৩ ধারায় সব ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সেই কারণেই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে লালবাজার।শুধু তাই নয়, ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে আদালতে ইতিমধ্যেই আরেকটি মামলাও বিচারাধীন। ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাজনৈতিক সভা করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত না হয়। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে সেই নির্দেশ মানা হয়নি। সেই ঘটনাকে ঘিরে আদালত অবমাননার মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।ফলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আগের নির্দেশ এবং নতুন আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আয়োজন ঘিরে জট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন নজর আগামী ১৩ জুলাইয়ের শুনানির দিকে। আদালতের রায়ের উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে, ধর্মতলায় কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ আদৌ সবুজ সংকেত পায় কি না।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *