Breaking News

জমি দখল থেকে কোটি টাকার দুর্নীতি! প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট ইডির

নিজস্ব সংবাদদাতা :-জমি দখল ও আর্থিক দুর্নীতির মামলায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ১১৪ পাতার এই চার্জশিটে প্রাক্তন পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অন্তত ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে জমি দখল চক্রে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার এবং ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশের অভিযোগও করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।ইডি সূত্রে খবর, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে জমি দখলের জন্য একটি চক্র সক্রিয় ছিল।তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পু, জয় কামদার এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাস পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করে জমি দখলের কাজ চালাতেন। জমির মালিকদের ভয় দেখানো, মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো এবং পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করার মতো অভিযোগও রয়েছে চার্জশিটে। ইডির দাবি, এই গোটা চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এর আগে এই মামলায় একটি মূল চার্জশিট জমা দিয়েছিল ইডি। শুক্রবার আদালতে দাখিল করা হয় প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট। এতে ২৬ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধেও পৃথক চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে। এর আগে ব্যবসায়ী জয় কামদারের বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিটে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছিল।চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন জয় কামদার। জমি দখলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো মালিকদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে চাপ সৃষ্টি করা হত। তদন্তে জয় কামদার ও শান্তনুর মধ্যে হওয়া একাধিক চ্যাটও উদ্ধার হয়েছে, যা এই যোগসাজশের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইডি।
তদন্ত চলাকালীন শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি চালালেও তাঁর মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। এই মামলায় তাঁর দুই ছেলেকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ১৪ মে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে ইডি। গ্রেফতারের প্রায় এক মাসের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হল।ইডির দাবি, নির্মাণ ব্যবসায়ী, পুলিশ এবং দুষ্কৃতীদের একাংশকে নিয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল ও বেআইনি আর্থিক লেনদেন চলেছে। চার্জশিটে শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের আয়-ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে তিনি পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছেন না বলেও দাবি করেছে ইডি। তদন্তকারীদের মতে, দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া অর্থের প্রকৃত অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে। সেই আর্থিক লেনদেনের উৎস ও সম্পদের হদিশ পেতেই তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *