প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বিরোধী বিজেপির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আক্রমণের মুখে পড়ল তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে দলত্যাগীদের ‘গদ্দার’ ও ‘বেইমান’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে বিজেপি, রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।ভাষণের শুরুতেই অভিষেক অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক শক্তি, কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ও পুলিশকে ব্যবহার করেও বিজেপি মানুষের সমর্থন আদায় করতে পারেনি। তাঁর দাবি, নানা বাধা, ভাঙচুর ও চক্রান্ত সত্ত্বেও একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি আটকানো যায়নি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই তার প্রমাণ।এরপরই নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে নিশানা করেন অভিষেক। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “৫ ওয়াট, ১০ ওয়াটের বাল্ব এখন ভাবছে হ্যালোজেন হয়ে গিয়েছে। বিদ্যুতের সঞ্চার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শক্তির উৎসও তিনিই।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁর মন্তব্য, “যে নিজের মাকে ত্যাগ করে, সেই সন্তানকে সৃষ্টিকর্তাও ক্ষমা করেন না।”মেয়ো রোডের সমাবেশ নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। অভিষেকের দাবি, “মেয়ো রোডে যত লোক রয়েছে, গ্রামের মাটি কাটতে জেসিবি নামলে তার থেকেও বেশি মানুষ জড়ো হয়।” তাঁর কথায়, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, সেখানেই মানুষের সমর্থন রয়েছে। “তৃণমূলের শিকড়ের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপসহীন লড়াই করে লক্ষ লক্ষ কর্মী এই দলকে বটবৃক্ষে পরিণত করেছেন,” বলেন তিনি। দলত্যাগীদের উদ্দেশে আরও কড়া বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “গদ্দাররা ওই শিবিরে গিয়েছে। ওদের নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই, শুধু ‘বি.সি.’ বললেই হবে—বালিশ চাটা।” তাঁর দাবি, কেউ গদ্দারি বা বেইমানি করে তৃণমূলকে দুর্বল করার স্বপ্ন দেখলে ভুল করবে, কারণ এতে দল আরও শক্তিশালী হবে।শেষে বিজেপিকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ফুটপাতে থাকব, তবু লড়াই করে বিজেপিকে হারাব। দেখি ওরা কী করতে পারে। বাংলার মাটি থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার লড়াই চলবেই।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal