Breaking News

‘পাশবালিশ হয়ে লাভ নেই, সাহস থাকলে সরাসরি বিজেপিতেই যান’, একুশের মঞ্চ থেকে ঋত-শিবিরকে কড়া বার্তা মমতার!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার ডাক ফের শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপিকে হারাতে হলে বিরোধী শক্তির ঐক্যই একমাত্র পথ। তাঁর বক্তব্য, “আমার কোনও ছুঁৎমার্গ নেই। ইন্ডিয়া জোট নিয়েই একসঙ্গে চলব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে চাইলে সবাই একসঙ্গে আসুন।”তবে এই বার্তা ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক সিপিএম—যাদের বিরুদ্ধেই ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের আন্দোলনের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সেই সময় মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই ঘটনাকে সামনে রেখেই সিপিএমকে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে, একুশের শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকেই সিপিএম-সহ ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে তাঁর সওয়াল রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, দল ভাঙার পর প্রথম একুশে জুলাইয়ের সভা থেকেই সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিরুদ্ধে। বিজেপিকে নিশানা করার পাশাপাশি দলত্যাগীদেরও একের পর এক কটাক্ষ করেন তিনি। নাম না করেই নতুন শিবিরকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে আখ্যা দিয়ে মমতার মন্তব্য, “আমরা বেঁচে গেছি, চোরগুলো বিজেপিতে চলে যাচ্ছে। এভাবে বিজেপির পাশবালিশ হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই, সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিন। আপনাদের জায়গা দলের ছাত্র-যুবরাই নিয়ে নেবে।”সভার শুরুতেই বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে সভাস্থলে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, শব্দ সম্প্রচারের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে আটকে দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছে। মমতার অভিযোগ, “ওরা তারকাটা পার্টি। গুন্ডা পাঠিয়ে ভাঙচুর করেছে। সারারাত পাহারা দিতে হয়েছে। এমনকি সকালে আমার বাড়ির সামনেও মিছিল করেছে। কিন্তু ওরা জানে না, আমার শুধু প্ল্যান ‘এ’ নয়, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’—সবই তৈরি থাকে।”
এরপরই দলত্যাগীদের উদ্দেশে আরও কড়া বার্তা দেন তিনি। মমতার দাবি, কয়েকজন নেতা দল ছাড়লেও তৃণমূলের মূল শক্তি এখনও কর্মী-সমর্থকদের হাতেই রয়েছে। তাঁর কথায়, “শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিলেই দল হয়ে যায় না। আসল তৃণমূল আমরা। ওটা বিজেপির সাইনবোর্ড। কর্মীরা এখনও আমাদের সঙ্গেই আছেন।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *