Breaking News

এড়ানো গেল ভোটাভুটি! পিএসি-তে ২০ সদস্যের মনোনয়ন চূড়ান্ত, ঋতব্রত শিবিরের হাতেই চেয়ারম্যান পদ, দৌড়ে ফিরহাদ হাকিম ও সমর মুখোপাধ্যায়

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) গঠনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরে বিভাজনের মধ্যেই পিএসি-র সদস্য হিসেবে পাঁচ জনের নাম জমা দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের তরফে জমা পড়েছে এক জনের নাম। বিধানসভার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ২০ সদস্যের এই কমিটিতে ১৪ জন থাকবেন শাসকদলের এবং ৬ জন বিরোধী শিবিরের বিধায়ক। সেই ছয় জনের মধ্য থেকেই নির্বাচন করা হবে পিএসি-র চেয়ারম্যান।রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল বর্তমানে দুই শিবিরে বিভক্ত থাকায় চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে ভোটাভুটির সম্ভাবনার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা স্পষ্ট হবে বিধানসভার বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে। সেদিনই স্পিকার রথীন্দ্র বসু পিএসি চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করবেন।
শাসকদলের মনোনীত ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন অনুপকুমার সাহা, অম্লান ভাদুড়ি, বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, রাজেশ কুমার, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, শিখা চট্টোপাধ্যায়, সোনম লামা, সৌরভ সিকদার, সুব্রত ঠাকুর এবং স্বপনকুমার দাস।
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরের ব্যয়, আর্থিক লেনদেন এবং ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই কমিটির চেয়ারম্যান পদকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক— দুই দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপির টিকিটে জয়ী হলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়া মুকুল রায়কে পিএসি চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে ২০২২ সালে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন মুকুল রায়।বিধানসভা সূত্রের খবর, এবার বিরোধী দলের মর্যাদা বজায় রাখতে চেয়ারম্যান পদটি বিরোধী শিবিরের হাতেই রাখার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে শাসকদল। সেই কারণে ঋতব্রত শিবিরের কোনও বিধায়কের চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।সূত্রের দাবি, পিএসি-র পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দুই নাম— রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় এবং বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। এই দুই নেতার মধ্যে যে কোনও একজনের হাতেই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে বলে জোর চর্চা চলছে বিধানসভার অন্দরে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *