দেবরীনা মণ্ডল সাহা :-জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে জালিয়াতি ও দুর্নীতি রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। আগেই শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছিল। এবার সেই নিয়ম আরও কঠোর করে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে জন্ম বা মৃত্যু শংসাপত্রে আর কোনও পুরপ্রধান, পঞ্চায়েত প্রধান বা অন্য কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সই করতে পারবেন না। এই দায়িত্ব থাকবে শুধুমাত্র সরকার মনোনীত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের হাতে।
বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল জানান, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে একাধিক অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসনের কাছেও এ সংক্রান্ত বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। নিয়ম থাকা সত্ত্বেও নানা জায়গায় সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে এবং তার সুযোগও নিয়েছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ধাপে ধাপে পুনরায় যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষাও চালানো হবে। যাচাইয়ে কোনও ভুয়ো শংসাপত্র ধরা পড়লে তা বাতিল করা হবে। তবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যসচিব বলেন, এটি একটি নিয়মিত যাচাই প্রক্রিয়া। সঠিক নথি থাকা ব্যক্তিদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। এই কাজ শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই করবেন, কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
এদিকে নবান্নের নির্দেশের আগেই রাজ্যজুড়ে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা, পুরসভা এবং পঞ্চায়েতেও চলছে তল্লাশি। বীরভূম জেলার ১৬৭টি পঞ্চায়েত এবং ৬টি পুরসভায় অভিযান চালিয়ে শংসাপত্র সংক্রান্ত রেজিস্টার সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।
মুখ্যসচিব আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাঁদের হাতে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর দায়িত্ব থাকবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের অভিযোগ বেশি পাওয়া গিয়েছে। যেহেতু জন্ম শংসাপত্রের ভিত্তিতেই আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র তৈরি হয়, তাই এই নথির নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকার এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal