দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। দুর্নীতিদমন শাখাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে বড় প্রশাসনিক রদবদল করা হল। সোমবার রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা বিভাগে (আইবি) কর্মরত তিনজন অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিককে দুর্নীতিদমন শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আইবি-র আইজি মুরলীধরকে দুর্নীতিদমন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আইবি-র ডিআইজি আকাশ মাঘারিয়া এবং স্পেশ্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট কামনাশিস সেনকেও এই শাখায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, দুর্নীতির তদন্তে গতি আনতে এবং নজরদারি আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কোনও ক্ষেত্রেই রক্ষা করবে না। সেই নির্দেশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক দুর্নীতির মামলায় অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ছোট, মাঝারি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। সেইসব মামলার কয়েকটির তদন্ত করছে রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখা। ফলে এই শাখাকে আরও দক্ষ করে তুলতেই এই প্রশাসনিক রদবদল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে একাধিক আইপিএস অফিসারকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন মুরলীধর ও আকাশ মাঘারিয়াও। মুরলীধর তখন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার এবং আকাশ মাঘারিয়া হাওড়ার পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। প্রথমে কমিশন তাঁদের ভিন্রাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সেই নির্দেশ স্থগিত করা হয়। এরপর আকাশকে গোয়েন্দা বিভাগে এবং মুরলীধরকে আইবি-তে পাঠানো হয়েছিল। এবার সেখান থেকেই তাঁদের দু’জনকে দুর্নীতিদমন শাখায় আনা হল। একইসঙ্গে কামনাশিস সেনকেও এই শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনিক মহলের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতেই এই রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal