দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- কলকাতার আকাশে নিষিদ্ধ চিনা মাঞ্জার দাপট যে এখনও অব্যাহত, তারই আরও এক উদ্বেগজনক নজির সামনে এল। শনিবার রাতে মা ফ্লাইওভারে অ্যাপ-বাইকে চেপে যাওয়ার সময় চিনা মাঞ্জার শিকার হলেন এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। কাঁচের গুঁড়ো মাখানো ধারালো সুতো মুখে জড়িয়ে গিয়ে নাক, গাল-সহ মুখের একাধিক অংশ গভীরভাবে কেটে যায়। তবে চোখে চশমা থাকায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।জখম শিক্ষিকার নাম এশা মণ্ডল। দুর্গাপুরের বাসিন্দা হলেও গত তিন বছর ধরে কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন তিনি। শনিবার রাতে অ্যাপ-বাইক করে মা ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই উড়ে আসা একটি চিনা মাঞ্জা তাঁদের সামনে চলে আসে। বাইকচালক বিপদ বুঝে মাথা নিচু করে নিলেও পিছনে বসে থাকা এশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সুতো তাঁর মুখে পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ধারালো মাঞ্জায় মুখের একাধিক জায়গা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর আর সময় নষ্ট না করে বাইকচালকই এশাকে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, ক্ষতস্থানের ভিতরে প্রচুর কাঁচের গুঁড়ো ঢুকে গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই কাঁচের কণা বের করতে হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এশা বলেন, “চিনা মাঞ্জা কতটা ভয়ঙ্কর, তা আগে জানতাম না। সুতোটা মুখে লাগতেই মনে হয়েছিল যেন বিদ্যুতের শক খেলাম। পরে দেখি মুখের বিভিন্ন জায়গা কেটে রক্ত বেরোচ্ছে। চিকিৎসকরা ক্ষতস্থান থেকে অনেক কাঁচের গুঁড়ো বের করেছেন। ওঁদের কাছেই শুনলাম, মা ফ্লাইওভারে এর আগেও বহু মানুষ চিনা মাঞ্জার শিকার হয়েছেন, এমনকি প্রাণও গিয়েছে অনেকের।”চিকিৎসকদের মতে, এশার চোখে চশমা থাকায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। চিনা মাঞ্জার ঘর্ষণে চশমার কাচে দাগ পড়লেও চোখে কোনও আঘাত লাগেনি। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হতে পারত।ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন এশা ও তাঁর পরিবার। তাঁর মা রুমা মণ্ডল বলেন, “সংবাদমাধ্যমে চিনা মাঞ্জার ভয়াবহতার খবর বহুবার দেখেছি। কিন্তু নিজের মেয়েই যে এমন ঘটনার শিকার হবে, কোনওদিন কল্পনাও করিনি।”বারবার নিষেধাজ্ঞা, পুলিশি অভিযান এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারির পরও শহরে কীভাবে নিষিদ্ধ চিনা মাঞ্জার ব্যবহার চলছে, তা নিয়ে ফের উঠছে প্রশ্ন। বিশেষ করে মা ফ্লাইওভার-সহ ব্যস্ত রাস্তায় এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal