প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- তোলাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে নিজেদের দলকেই কড়া বার্তা বিজেপির, শমীকের পর এবার সরব মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুর্নীতি বা তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকলে কোনও নেতা-কর্মীকেই রেয়াত করা হবে না। একই সঙ্গে দলের একাংশকে সতর্ক করে দিলীপের মন্তব্য, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে কেউ যেন পথভ্রষ্ট না হন।রবিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল জমানায় যাঁরা তোলাবাজি ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সরকার বদলের পর তাঁদের অনেকেই বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, “তোলাবাজি সংস্কৃতি একদিনে শেষ হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। দুর্নীতিবাজরা এখন আমাদের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের অনেক নেতাও সেই প্রলোভনে পা দিচ্ছেন।”
নাম না করেই দলের কয়েকজন বিধায়ককে নিশানা করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নতুন দায়িত্ব ও ক্ষমতা পাওয়ার পর কিছু জনপ্রতিনিধির আচরণ বদলে যাচ্ছে। “কিছু নতুন বিধায়ক ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। তাঁদের চারপাশে ভিড় করছে তোলাবাজেরা। ক্ষমতার নেশায় কেউ কেউ ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন, কথাবার্তা ও ব্যবহারও পাল্টে যাচ্ছে,” মন্তব্য দিলীপের।এদিন তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি নেতৃত্ব সবকিছুর উপর নজর রাখছে। “মানুষ কেন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটা আমরা যেন না ভুলি। ছ’মাস যেতে দিন, দল প্রত্যেকের হিসেব নেবে,” বলেন তিনি। পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “তোলাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় নয়, ন্যায়বিচারের পক্ষেই দাঁড়াতে হবে।”উল্লেখ্য, এর আগেই তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক স্তরে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সাংগঠনিক স্তরেও দল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে।”দলের ভিতরে বিচ্যুতির কথা স্বীকার করে শমীক আরও বলেছিলেন, “আরও ১৫ দিনের সময় দিচ্ছি। তারপর কী হবে, সবাই বুঝতে পারবেন।” পাশাপাশি ‘ডিম থেরাপি’-র প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কড়া মন্তব্য ছিল, “এই ডিম কিন্তু ঘুরে গিয়ে অন্য দিকেও পড়তে পারে। সেটা বিরোধীদের যেমন মনে রাখতে হবে, তেমনই আমাদের দলকেও মনে রাখতে হবে।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal