প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- কলকাতার রাস্তায় অবৈধ পার্কিং, অতিরিক্ত পার্কিং ফি আদায় এবং ফুটপাথ দখল করে যানবাহন দাঁড় করানোর বিরুদ্ধে এবার বড় পদক্ষেপের পথে কলকাতা পুরসভা। শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে অ্যাপ-নির্ভর ক্যাশলেস পার্কিং ব্যবস্থা। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে বেআইনি অর্থ আদায় বন্ধ হবে, একই সঙ্গে পার্কিং পরিষেবায় আসবে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।মন্ত্রী জানান, কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই শহরে প্রায় ১৫ হাজারটি বৈধ পার্কিং স্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজারটি পার্কিং স্পট কলকাতা পুরসভার তালিকাভুক্ত রয়েছে। বাকি পার্কিং স্থানগুলিও দ্রুত চিহ্নিত করে সরকারি তালিকার আওতায় আনা হবে। কোন কোন জায়গা এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও পুরসভার যৌথ টিম গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি। লক্ষ্য, শহরের প্রতিটি বৈধ পার্কিং স্পটকে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।
নতুন ব্যবস্থায় পার্কিং ফি আর নগদে নেওয়া যাবে না। পুলিশের তৈরি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সমস্ত পার্কিং চার্জ ডিজিটালভাবে জমা দিতে হবে। কোনও পার্কিং কর্মী নগদ টাকা চাইতে পারবেন না। এর ফলে অতিরিক্ত টাকা আদায়, রসিদ না দেওয়া বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মতো অভিযোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে পুর প্রশাসন।এছাড়াও প্রতিটি পার্কিং কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম, ছবিসহ বৈধ পরিচয়পত্র এবং পরিচয়পত্র দৃশ্যমানভাবে বহন করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রতিটি পার্কিং জোনে বড় করে রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখতে হবে, যেখানে গাড়ির ধরন অনুযায়ী ঘণ্টাপিছু নির্ধারিত পার্কিং ফি স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে। ফলে কোনও কর্মী ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত টাকা দাবি করতে পারবেন না।
এদিন শহরের ফুটপাথ দখল করে গাড়ি ও বাইক পার্কিং নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ফুটপাথ পথচারীদের জন্য। সেখানে গাড়ি রেখে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কোথায় পার্কিংয়ের অনুমতি রয়েছে তা প্রয়োজন হলে পুলিশের কাছ থেকে জেনে তবেই গাড়ি রাখা উচিত।পুর প্রশাসনের দাবি, নতুন অ্যাপ-নির্ভর ক্যাশলেস পার্কিং ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে যেমন বেআইনি পার্কিং ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে লাগাম টানা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার রাজস্ব আদায় আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখা এবং পার্কিং ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal