প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বিধানসভায় তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না— এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে শুক্রবার সেই মামলায় কোনও স্বস্তি মিলল না তাঁর। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাস মামলাটি খারিজ করে জানিয়ে দিল, এ ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তির উপযুক্ত জায়গা আদালত নয়, বিধানসভার স্পিকারের কাছেই বিষয়টি জানাতে হবে।শুক্রবার প্রথমে মামলাটি গ্রহণ করলেও বিকেলে শুনানির সময় আদালতে প্রশ্ন ওঠে, বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে আদালত আদৌ কোনও নির্দেশ দিতে পারে কি না। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানতে চান, “আদালত কীভাবে স্পিকারকে নির্দেশ দেবে যে কাকে কখন বক্তব্য রাখার সুযোগ দিতে হবে?”কুণাল ঘোষের হয়ে আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য আদালতে দাবি করেন, এটি ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’-র বিষয়। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের চিফ হুইপ ইচ্ছাকৃতভাবে কুণাল ঘোষের নাম বক্তাদের তালিকায় পাঠাচ্ছেন না। আদালতের কাছে তাঁদের একমাত্র আবেদন ছিল, কুণাল ঘোষের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে স্পিকার তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন।
অন্যদিকে বিধানসভার পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর যুক্তি দেন, এই মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাঁর বক্তব্য, ২৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে প্রত্যেককে নির্দিষ্ট সময়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। কুণাল ঘোষ ইতিমধ্যেই জুন মাসে বিধানসভায় বক্তব্য রেখেছেন। কে কখন বলবেন, তা নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আদালত সেই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কুণাল ঘোষের আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত জানিয়ে দেয়, বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তা স্পিকারের কাছেই জানাতে হবে।উল্লেখ্য, গত মাসে বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। সেই সময় অধিবেশনে তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তাঁকে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে সাসপেন্ডও করা হয়। এরপর থেকেই নিজের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে একাধিকবার সরব হন কুণাল, যারই আইনি পরিণতি ছিল এই মামলা।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal