প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- সল্টলেকের সুকান্তনগরের একটি গেস্ট হাউসে দেহব্যবসা ও নাবালিকাদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল বিধাননগর কমিশনারেট। শুক্রবার অভিযানে নেমে সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সায়ন দে এবং অনির্বাণ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় ওই গেস্ট হাউস থেকে একাধিক তরুণী ও নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সুকান্তনগরের ওই গেস্ট হাউসে বেআইনি কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি এক প্রোমোটরও জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের কাছে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয় বিধাননগর গোয়েন্দা শাখা। শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গেস্ট হাউসে হানা দেয় পুলিশ। তল্লাশিতে একাধিক তরুণী ও নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে গেস্ট হাউস পরিচালনা ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে সায়ন দে এবং অনির্বাণকে গ্রেফতার করা হয়।
সায়ন দে-কে অতীতে একাধিকবার প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁদের একসঙ্গে একাধিক ছবি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই এলাকায় তাঁর প্রভাব ছিল।এ বিষয়ে বিজেপির বিধাননগর মণ্ডল-২-এর সহ-সভাপতি শান্তনু সরকার দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বলেই রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে।তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত সায়ন দে। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।উল্লেখ্য, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু বর্তমানে জেলবন্দি। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য কোনও নেতার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal