Breaking News

‘ওদের জেলে দেখতে চাই’! কেশপুরের মঞ্চ থেকে এসপি পাপিয়াকে কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর, ‘শাহের কথায়’ ক্ষুদিরামের ভিটেয় ৫ কোটি বরাদ্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা :- মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কেশপুরে গিয়ে একদিকে উন্নয়নের বার্তা, অন্যদিকে পুরনো দিনের ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল আমলে কেশপুরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার এবং রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এবার সেই মামলাগুলি ফের খোলার নির্দেশ দিলেন তিনি। সভামঞ্চ থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে সরাসরি নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ২০২৪ সালে তাঁকে কেশপুরে সভা করতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাও নতুন করে শুরু করতে হবে।ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনিতে তাঁর পৈতৃক ভিটেয় যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপরই সভামঞ্চ থেকে একাধিক বিষয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু।উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা বলার পাশাপাশি তৃণমূল আমলে বিজেপি কর্মীদের উপর রাজনৈতিক অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি।সভা থেকে পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু বলেন, “নরেন্দ্র মোদি জিন্দাবাদ বলার জন্য অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন অনেক মানুষ। এসপি-কে বলে গেলাম, সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করবেন।” তাঁর দাবি, কেশপুরের বহু বিজেপি কর্মীকে মাসের পর মাস জেলে থাকতে হয়েছে। সামনে বসে থাকা কর্মীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এদেরকে জেল খাটিয়েছে মাসের পর মাস।”২০২৪ সালে কেশপুরে তাঁকে সভা করতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গও ফের তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “এই কেশপুরে আমাকে সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। মানিনি আমি। মানুষ আসেনি, কিন্তু আমি এসেছিলাম। আমি কিচ্ছু ভুলিনি।”এরপরই পুলিশ সুপারের উদ্দেশে আরও কড়া বার্তা দেন তিনি। শুভেন্দুর নির্দেশ, “মাননীয় এসপি, আপনি ওই মামলাটা বার করবেন। যারা জড়িত ছিল, তাদের আমি জেলে দেখতে চাই।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পুরনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও মামলা নিয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন নজর।এদিন কেশপুর সফরে ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিরক্ষার বিষয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে উন্নয়নমূলক কাজ করার বিষয়েও তাঁর সঙ্গে কথা হয় বলে জানান শুভেন্দু।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি বললাম, ১১ তারিখ আমার ওখানে যাওয়ার আছে। অনেক কিছু করারও আছে। উনি বললেন, ‘এটা তোমায় করতেই হবে’।” ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতির সঙ্গে জড়িত স্থান সম্পর্কে অমিত শাহের আগ্রহের জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানান শুভেন্দু।
মোহবনি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসকের দেওয়া পরিকল্পনা ও পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষুদিরামের স্মৃতিতে একাধিক প্রকল্প তৈরির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সংগ্রহশালা, গ্যালারি, লেজার শো এবং অতিথি আবাস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।শুভেন্দু বলেন, “প্রাথমিক ভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে গেলাম। বর্ষার মধ্যেই টেন্ডার করে অক্টোবর থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আগামী বছর যেন এসে দেখতে পাই, কাজগুলো হয়ে গিয়েছে।”তবে এই প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা যথেষ্ট নয় বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যে পরিকল্পনা, তাতে ৫ কোটি টাকায় কিছু হবে না, আরও অর্থ লাগবে। কিন্তু অর্থ বাধা হবে না।”
শুধু ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিরক্ষা নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও এদিন সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দীর্ঘ বামফ্রন্ট শাসন এবং পরবর্তী তৃণমূল আমলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “তারা না দিয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান, না তুলে ধরেছে আমাদের রাষ্ট্রবাদের অতীত ইতিহাস!”শেষে রাজ্যে ‘ব্যবস্থার পরিবর্তন’-এর বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে শুধু মুখ, দল কিংবা ঝান্ডার পরিবর্তন নয়, মানুষ এবার ব্যবস্থার পরিবর্তনও দেখতে পাবেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *