Breaking News

ভিক্টোরিয়ার মাটির নীচে নয়া ইতিহাস! সুড়ঙ্গের কাজ শেষ করে মাটি ফুঁড়ে বেরোল ‘দুর্গা’র বোন ‘দিব্যা’, আরও একধাপ এগোল কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইন

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- জোরকদমে এগিয়ে চলেছে কলকাতা মেট্রোর জোকা-এসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের কাজ। মঙ্গলবার কলকাতার মেট্রো প্রকল্পে যোগ হল আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। ভিক্টোরিয়া স্টেশনের কাছে মাটি ফুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে এল বোরিং মেশিন ‘দিব্যা’। দুপুর ১২টা নাগাদ দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করে মাটির উপরে উঠে আসে বিশালাকার এই মেশিন।
মেট্রো সূত্রে খবর, খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৭৪০ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ তৈরির দায়িত্ব ছিল ‘দিব্যা’র উপর। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর কাজ শুরু করার পর প্রায় ১০ মাস ধরে মাটির নীচে নিরলসভাবে কাজ করে এই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ করেছে সে।পার্পল লাইনের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে সুড়ঙ্গ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দুই বোরিং মেশিনকে—‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’। মেট্রোর কর্মী ও আধিকারিকদের কাছে তারা হয়ে উঠেছিল ‘দুই বোন’। প্রথম সুড়ঙ্গ কাটার কাজ আগেই শেষ করেছিল ‘দুর্গা’। গত জুলাইয়ে ভিক্টোরিয়ার কাছে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছিল সে। এরপর দ্বিতীয় সুড়ঙ্গের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল ‘দিব্যা’।তবে কলকাতার ব্যস্ত মহানগরের নীচে এই সুড়ঙ্গ তৈরি মোটেই সহজ কাজ ছিল না। উপরদিকে ঘনবসতি, ব্যস্ত রাস্তা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের উপস্থিতিও ছিল। কোনওরকম ক্ষয়ক্ষতি বা সমস্যা ছাড়াই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাটির নীচে সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের।মঙ্গলবার ‘দিব্যা’ মাটি ফুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতেই ভিক্টোরিয়ার কাছে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বহুদিন ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন মেট্রোর আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা। মেশিনটি বাইরে আসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তাঁরা। ‘দিব্যা’কে পিছনে রেখে একসঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায় কর্মী-ইঞ্জিনিয়ারদের।
কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার প্রেমসাগর গুপ্তা এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, “এ এক বড় সাফল্য। এদিন দিব্যা নিজের যাত্রা শেষ করেছে। আমরা সত্যিই এ ব্যাপারে খুশি। কারও কোনও ক্ষতি না হয়ে এই কাজটি শেষ হয়েছে।” ‘দিব্যা’র এই সাফল্যের ফলে জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত পার্পল লাইনের সংযোগ তৈরির কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেল। সম্পূর্ণ প্রকল্প চালু হলে কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। শহরের যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্কেও খুলে যেতে পারে নতুন দিগন্ত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *