প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ‘হামলার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার বিধানসভা চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল কালীঘাট তৃণমূল। সেই কর্মসূচিতে দেখা গেল ঋতব্রত শিবিরের তিন বিধায়ককেও।মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা, বসিরহাটের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল ও বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্য শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েও কেন তাঁরা এই কর্মসূচিতে এলেন, তা নিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিন বিধায়ক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে এদিন বিধানসভা চত্বরে মিছিল করেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবর আলি, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ, অসীমা পাত্র-সহ কালীঘাট তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রী। বিক্ষোভ থেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।কুণাল ঘোষ বলেন, হামলাকারীদের সরকার মদত দিচ্ছে। তাঁদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। তাঁর দাবি, ভয় দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থামানো সম্ভব নয়।
এই বিক্ষোভেই নজর কাড়ে ঋতব্রত শিবিরের তিন বিধায়কের উপস্থিতি। মমতার পাশে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তৌসিফুর রহমান বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক ও আনুগত্যের জায়গাটি আলাদা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যেখানে দিদি, সেখানে আমি। মমতাদির ছবি ছাড়া ৫০০ ভোটও পেতাম না।’’ তাঁর দাবি, ঋতব্রত শিবিরের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারম্যান হওয়ার কথা বলা হলেও সেই সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে বিভাস সর্দার জানান, দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত বিধায়কদের প্রত্যেকেরই এই ঘটনার প্রতিবাদ করা উচিত। তাঁর কথায়, নেত্রীর উপর আঘাতের ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। মমতার প্রতীকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন, তাই এই প্রতিবাদে সকল তৃণমূল বিধায়কেরই থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।একই সুরে আব্দুল খালেক মোল্লাও জানান, তিনি ঋতব্রতপন্থী হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে আঘাতের ঘটনার প্রতিবাদ করছেন। তাঁর বক্তব্য, নেত্রীর উপর হামলার অভিযোগ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচরাপাড়ায় যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন।সেখানে যাওয়ার পথে মমতার গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা এবং ছেঁড়া চটি ছোড়া হয়। পাশাপাশি ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার এবং পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ লুম্পেনদের সুরক্ষা দিচ্ছে এবং বিজেপিকে প্রোটেকশন দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানান তিনি।
যদিও তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক উস্কানি দিতেই কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষ তারই প্রতিবাদ করেছে বলে দাবি বিজেপির। ঘটনাকে ঘিরে পাল্টা কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারীও।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal