Breaking News

‘চিকিৎসার অধিকার সবার আছে’, রাজ্যের আপত্তি খারিজ! চোখের চিকিৎসায় অভিষেককে ৩ সপ্তাহ বিদেশযাত্রার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা :- চোখের চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহের বিদেশ সফরে যেতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর বিদেশযাত্রার আর্জি মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞায় আপাতত শীর্ষ আদালতের নির্দেশে স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে অভিষেককে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেই তাঁকে বিদেশ সফর করতে হবে। একই সঙ্গে কোথায়, কতদিন থাকবেন এবং তাঁর সম্পূর্ণ ভ্রমণসূচি কী—সেই সংক্রান্ত তথ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে।
তবে এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অভিষেকের সফর ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্তকারী সংস্থাকে।
শুনানিতে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় অভিষেককে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই তিনি বিদেশে যাবেন। ফলে তাঁর সফর সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছেও থাকবে বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।আইনজীবীর আরও বক্তব্য, অভিষেক বর্তমানে লোকসভার সাংসদ এবং একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা দেশেই থাকেন। তাই বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেলে তিনি আর দেশে ফিরবেন না—এমন আশঙ্কার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু অভিষেকের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, অভিষেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তিনি দেশে ফিরে নাও আসতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পাল্টা যুক্তিতে অভিষেকের আইনজীবী জানান, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এএসজি পাল্টা মন্তব্য করেন, আগের সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ করার সাহস ছিল না।বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। রাজ্য সরকারের তরফে বলা হয়, চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না তা যাচাই করতে যে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, তার সামনে অভিষেকের হাজির হওয়া উচিত ছিল।এর আগে ৫ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে তিনি হাজির হননি।যদিও অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা জন হাই কোর্টে জানিয়েছিলেন, বিদেশে তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার করেছিলেন যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, তাঁর কাছেই ফের চিকিৎসা করাতে চান তৃণমূল সাংসদ। এসএসকেএম বা আইপিজিএমইআর-এ চিকিৎসা করানোর বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন বলেও আদালতে জানানো হয়েছিল।
হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সোমবার দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, তিন সপ্তাহের বিদেশ সফরে তাঁকে বাধা দেওয়া যাবে না। তবে সফরের আগে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে তাঁর কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়া অন্য কোনও পাসপোর্ট নেই।শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, একজন ব্যক্তির কোথায় চিকিৎসা করাবেন, তা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর অধিকার রয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্ত মেনে অভিষেকের তিন সপ্তাহের বিদেশ সফরে অনুমতি দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *