Breaking News

কলকাতার রাজপথে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ যাত্রা! জাতীয় পতাকা হাতে শামিল হাজার হাজার মানুষ, এ বছর থেকেই সরকারি উদ্যোগে ‘রাখি বন্ধন’ পালনের ঘোষণা

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- স্বাধীনতা দিবসের আবহে এবার নতুন নজির পশ্চিমবঙ্গে। কেন্দ্রের ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে প্রথমবার সরকারি ভাবে অংশ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার কলকাতার রাজপথে জাতীয় পতাকা হাতে তেরঙ্গা যাত্রায় নেতৃত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ।
গোষ্ঠ পাল সরণি থেকে শুরু হয় এই পদযাত্রা। প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মিছিল পৌঁছয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নর্থ গেটের কাছে। মিছিলের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অর্জুন সিং, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মণ, রুদ্রনীল ঘোষ, কৌস্তভ বাগচী-সহ একাধিক নেতৃত্ব। ‘প্রতিটি বাড়িতে তেরঙ্গা’ বার্তা সামনে রেখে এগিয়ে চলে মিছিল। নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কার্যত তেরঙ্গাময় হয়ে ওঠে কলকাতার রাজপথ।
তেরঙ্গা যাত্রা শেষে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে ব্যাপক ভাবে অংশ নেওয়ার আবেদন জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেক বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। পাশাপাশি আগামী ১৫ অগস্ট রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যবাসীকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
এবার ৯ থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে প্রায় ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই কর্মসূচিকে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।এর পাশাপাশি তেরঙ্গা যাত্রার মঞ্চ থেকেই আরও একটি বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে সরকারি ভাবে ‘রাখি বন্ধন’ উৎসব পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌভ্রাতৃত্ব এবং মানুষের মধ্যে বন্ধনের সম্পর্ক আরও মজবুত করতেই সরকারি ভাবে এই উৎসব পালন করা হবে।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাখি বন্ধনের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার এবং দেশের সেরা রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সংকল্পও ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিনের কর্মসূচিতে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং কলকাতা পুরসভার ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলার প্রতিটি পরিবার ‘হর ঘর তেরঙ্গা’-র অংশ হয়ে উঠুক।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *