Breaking News

রক্ষকই ভক্ষক! চেতলার বেসরকারি ব্যাঙ্কে গ্রাহকের ৭.৮০ লক্ষ টাকা ‘চুরি’, উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার ডেপুটি ম্যানেজার

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- কলকাতার চেতলার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের ডেপুটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের প্রায় ৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যাঙ্ককর্মীর নাম মমতা কুমারী। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। ট্রানজিট রিমান্ডে অভিযুক্তকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, মমতা কুমারী উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। চেতলার সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় তিনি ডেপুটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, নিজের পদ ও ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত সুযোগের অপব্যবহার করে এক গ্রাহকের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।তদন্তকারীদের দাবি, গ্রাহকের অজান্তে তাঁর ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার কেনাকাটা করেন অভিযুক্ত। এরপর ওই গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে তাঁর স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে আরও ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মমতা কুমারীর বিরুদ্ধে।ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতিতে মমতা কুমারীর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দীর্ঘ তদন্তের পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। জানা যায়, উত্তরপ্রদেশে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন অভিযুক্ত।এরপর কলকাতা পুলিশের একটি দল উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার আনন্দনগর এলাকায় পৌঁছে ৮ অগস্ট মমতা কুমারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাঁকে বালিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত ৪৮ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করে।সেই নির্দেশের পর অভিযুক্তকে নিয়ে কলকাতায় ফেরে তদন্তকারী দল। সোমবার তাঁকে আলিপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীরা মনে করছেন, এত বড় অঙ্কের জালিয়াতি একা মমতা কুমারীর পক্ষে করা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, গ্রাহকের টাকা কোথায় সরানো হয়েছিল এবং আত্মসাৎ করা অর্থের কতটা উদ্ধার করা সম্ভব—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের সঙ্গে আর কারও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হতে পারে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *