Breaking News

মমতা জমানায় জারি সমস্ত ওবিসি-এ, ওবিসি-বি শংসাপত্র বাতিল! কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা, সংরক্ষণ নিয়েও তৈরি নতুন জটিলতা

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া ওবিসি সংরক্ষণ নীতি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে ২০১০ সালের পর নতুন নিয়মে জারি হওয়া ওবিসি শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি শ্রেণিবিভাগের ভিত্তিতে দেওয়া ওই শংসাপত্রগুলি আর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে আদালতের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে।এর ফলে শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রধারীদের সামনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন নিয়মে যাঁরা ওবিসি শংসাপত্র পেয়েছিলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর তাঁদের সেই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়া যাবে না। ফলে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি—এই দুই পৃথক শ্রেণি তৈরি করে সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করে। সেই ব্যবস্থা নিয়ে পরবর্তী সময়ে একাধিক অভিযোগ ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়। নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণিকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। এর আগে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ ওবিসি সংক্রান্ত শংসাপত্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তৎকালীন তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শীর্ষ আদালতে মামলাটি ওঠার পর সেখানে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও দেওয়া হয়েছিল।
এরপর রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওবিসি সংক্রান্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নেতৃত্বে বিশেষ বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়।
সেই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বুধবারের রায়ে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ পাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।এই রায়ের প্রভাব কত সংখ্যক শংসাপত্রধারীর উপর পড়বে এবং ইতিমধ্যে ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে ভর্তি বা চাকরির প্রক্রিয়ায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে—তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে হাইকোর্টের এই রায়কে ঘিরে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে ফের জোরদার হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *