Breaking News

এক মাসে তিনবার রং বদল অ্যাকাডেমির! গেরুয়া থেকে সাদা, ২৪ ঘণ্টায় ফের গেরুয়া—রুদ্রনীলের হুঁশিয়ারি, ‘রাজনীতিকরণ বরদাস্ত নয়’

নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :-এক মাসের মধ্যে পরপর তিনবার রং বদল। অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের দেওয়াল ঘিরে ফের শুরু হল রাজনৈতিক চাপানউতোর। মঙ্গলবার শিল্পী ও কলাকুশলীরা গেরুয়া রং সরিয়ে দেওয়াল সাদা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের সেখানে গেরুয়া রং পড়ল। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নিজেই দেওয়ালের রং বদলের কাজ করালেন হাওড়ার শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।
অ্যাকাডেমি চত্বরে দাঁড়িয়ে রুদ্রনীলের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে কোনওভাবেই রাজনীতির ছাপ পড়তে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, “অ্যাকাডেমিতে কোনওমতেই রাজনীতিকরণ চাই না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে আর সিটুর স্লোগান বা লাল পতাকার রাজনীতি চলবে না।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রুদ্রনীল ঘোষ প্রবীণ বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নাম করে আক্রমণ করেন। পালটা বিকাশরঞ্জনের দাবি, ক্ষমতার জোরে অসভ্যতা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “হামলা করতেই পারেন, কিন্তু এর পরিণতি কী হবে তা বুঝতে পারছেন না। ক্ষমতায় আসার পর অসভ্যতা করছেন। মাথায় ক্ষমতা ঢুকলে বুদ্ধি হারিয়ে যায়।”অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের দেওয়াল রং করা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত গত ১২ জুলাই। ওই দিন অ্যাকাডেমির মূল গেটের পাশের টিকিট কাউন্টার গেরুয়া রং করা হয়। তার পাশে টাঙানো হয় ভারতমাতার একটি ব্যানার। ঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চার জায়গায় এভাবে রাজনৈতিক রঙের প্রবেশ নিয়ে সরব হন নাট্যব্যক্তিত্ব ও শিল্পীরা।ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে চিঠিও দেন। এমনকি তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান শিল্পী ও নাট্যকর্মীদের একাংশ। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও পরবর্তীতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর মঙ্গলবার শিল্পী ও কলাকুশলীরা নিজেরাই অ্যাকাডেমির একাংশের গেরুয়া রং বদলে সাদা করে দেন। ঘটনাস্থলে ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন-সহ আরও অনেকে। পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য হেস্টিংস থানার পুলিশও অ্যাকাডেমি চত্বরে মোতায়েন ছিল।কিন্তু সেই সাদা রং ২৪ ঘণ্টাও টিকল না। ফের অ্যাকাডেমির দেওয়ালে পড়ল গেরুয়া রং, পাশাপাশি ফিরে এল ভারতমাতার ছবি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *